আল জাজিরা ও রয়টার্সের তথ্যমতে, জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিশিলেমা বিপুল ভোটে জয়লাভ করে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করে। তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং ভোট গণনার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান বিরোধী দল তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। এটি হিশিলেমার জন্য এক বড় রাজনৈতিক বিজয় হলেও, দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন তার জন্য নতুন একটি পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, হিশিলেমা ২৯ লাখ ৬৫ হাজার ৩২৬ টি ভোট পেয়েছেন, যা মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৬১ শতাংশের কাছাকাছি। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিরোধী জোটের নেতা ব্রায়ান মুন্ডুবিলে পেয়েছেন প্রায় ১৮ লাখ ৫৬ হাজার ২১৭ টি ভোট, যা মোট ভোটের ৩৮ শতাংশ। গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত এই সাধারণ নির্বাচনের পর থেকেই ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রকাশ নিয়ে দেশটিতে এক ধরনের চাপা রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
নির্বাচনের দিন রাত থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সংঘাত এবং ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। আল জাজিরার সংবাদে বলা হয়েছে, বিরোধী দলীয় নেতা মুন্ডুবিলে অভিযোগ করেছেন যে ভোটের ফলাফলে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে এবং তাদের পক্ষের অনেক প্রতিনিধিকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরোধীদের জন্য সমান ও নিরপেক্ষ সুযোগ ছিল না। যদিও হিশিলেমার রাজনৈতিক দল এই সকল অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছে এবং এটিকে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক রায় বলে দাবি করেছে।
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন একটি প্রাথমিক বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে প্রচারণার সুযোগ পেলেও কিছু কিছু এলাকায় সহিংসতা এবং রাজনৈতিক ভীতির পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনের দিন রাতে একটি গোলাগুলির ঘটনার পর বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে বলে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। এসব বিশৃঙ্খলার ফলে নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য দেশব্যাপী ভোট গণনা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিশিলেমার প্রথম মেয়াদ মূলত দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বিপুল বিদেশি ঋণের বোঝা কমানোর দিকে নিবদ্ধ ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে তার সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। জাম্বিয়ার অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে তামার উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। জাম্বিয়ার সাধারণ মানুষ এখন অপেক্ষায় আছে তার এই সব অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয় তা দেখার জন্য।
