গাজা উপত্যকার সম্পূর্ণ অস্ত্র সমর্পণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের পুনর্গঠন কাজ শুরু করতে দেওয়া হবে না বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একমত হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার জন্য দুই দেশ ২টি যৌথ কমিটি গঠন করেছে। আল জাজিরা ও রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার এবং পিস বোর্ডের কর্মকর্তারা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে জেরুজালেমে দীর্ঘ বৈঠক করার পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফার গাজা শান্তি চুক্তির ২য় ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই কমিটি দুটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম কমিটির মূল দায়িত্ব হবে গাজার সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা। এই প্রক্রিয়ার অধীনে সমস্ত হালকা ও ভারী অস্ত্র সংগ্রহ করে স্থায়ীভাবে অকেজো করা হবে এবং সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় কমিটি গাজার স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে, যাতে ইসরায়েলি বাহিনীর কাছাকাছি কোনো মহামারির প্রাদুর্ভাব না ঘটে।
আলোচনা শেষে কুশনার মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানান যে নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজাকে পুনর্নির্মাণের অনুমতি দেবেন না। পরবর্তীতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয় যে গাজায় যেকোনো পুনর্গঠন কাজ শুরু করার আগেই দ্রুত অস্ত্র সমর্পণ প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই খবর স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেছে।
নতুন এই পরিকল্পনার একটি বড় পরিবর্তন হলো, ফিলিস্তিনি উপদলগুলোর জমা দেওয়া অস্ত্রগুলো ফিলিস্তিনের নতুন টেকনোক্র্যাট সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। এর পরিবর্তে, অস্ত্রগুলো সরাসরি মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন মার্কিন জেনারেল জেসপার জেফারস। আল জাজিরার বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের মধ্যে সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত পূর্ববর্তী সমঝোতার পরিপন্থি এবং এটি ফিলিস্তিনি দলগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করবে।
বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যা ইয়েলো লাইন নামে পরিচিত। চুক্তির এই একতরফা পরিবর্তনের বিষয়ে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কাতারের কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্বের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন যে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকাকে উপেক্ষা করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকদের মতে, পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার শর্ত হিসেবে অস্ত্র সমর্পণের দাবিটি আসলে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের চরম মানবিক দুর্ভোগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার শামিল।
এরই মধ্যে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩১২ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যা কম স্পষ্ট তা হলো, মানবিক সহায়তার জন্য গঠিত এই কমিটি কীভাবে কাজ করবে বা কবে নাগাদ এর কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশ করেননি। বিস্তারিত এখনো সামনে আসছে।
