বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ইসরায়েলি বসতি পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের কড়া নিষেধাজ্ঞা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

ইসরায়েলি বসতি পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের কড়া নিষেধাজ্ঞা

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার লন্ডনে পার্লামেন্টে ঘোষণা দেন যে যুক্তরাজ্য অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে, বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে।

পরবর্তীতে বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভূমিতে চলমান বাস্তবতার কারণে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাবনা পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার আগেই লন্ডনকে এই কঠোর বার্তা দিতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক ফর্মুলা হিসেবে বিবেচিত দ্বিরাষ্ট্র সমাধান যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য সময় শেষ হওয়ার আগেই অবস্থান গ্রহণ জরুরি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডকে জাতিগত নিধন হিসেবে চিহ্নিত করে এই মন্ত্রী বলেন, সেখানে বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসীরা সক্রিয় রয়েছে এবং ইসরায়েলি সরকার তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি চোখ বন্ধ করে রেখেছে। একই সাথে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাজ্যে ইহুদি বিদ্বেষ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে প্রধান ধর্মগুরু যে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা সরাসরি নাকচ করে দেন।

যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েল দেশটির বিরুদ্ধে চারটি কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।

তেলআবিবের ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া, যা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে। একই সাথে যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের ১১ জন বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যের ইসরায়েল প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির প্রশাসন। প্রবেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জেরেমি করবিন, ডায়ান অ্যাবট এবং জারা সুলতানা। আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই টানাপোড়েন নিয়ে উম্মাহকণ্ঠ ডট কম তথ্য সংগ্রহ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্কে এটি এক অভূতপূর্ব অবনতি। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে গড়ে তোলা বসতিগুলোর বিস্তার রোধেই লন্ডন এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে।

পার্লামেন্টে বক্তব্যের পাশাপাশি এড মিলিব্যান্ড কানাডা, ডেনমার্ক এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে একটি যৌথ বিবৃতিতেও স্বাক্ষর করেছেন। বিবৃতিতে পশ্চিমা দেশগুলো যৌথভাবে অভিযোগ করে যে, পশ্চিম তীরে তেলআবিবের একতরফা পদক্ষেপ একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনায় পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে, যা ইসরায়েলের পাশাপাশি পূর্ণ মর্যাদায় টিকে থাকবে। তবে ইসরায়েল এই দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই কেবল চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।

ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভাজন এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রতি নিজেদের সমর্থন অব্যাহত রাখলেও হামাস নীতিগতভাবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। তবে হামাসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অধিকার দেওয়া হলে ১৯৬৭ সালের প্রকৃত সীমান্তের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র তারা বিবেচনায় নিতে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যে এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে ১৯৯৩ সালে উভয় পক্ষের নেতারা ঐতিহাসিক অসলো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করলেও পরবর্তী বছরগুলোতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অনমনীয় অবস্থান এবং একে অপরকে দোষারোপের কারণে শান্তি আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে ভেস্তে যায়।

banner
Link copied!