স্পেনে আবাসন সংকট নিরসনে সরকারের প্রস্তাবিত জরুরি আইন পার্লামেন্টে বাতিল হয়ে যাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও ভ্যালেন্সিয়াসহ প্রধান শহরগুলোতে প্রায় ৫০টি প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন ভাড়াটিয়া সংগঠন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সংখ্যালঘু জোট সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
সড়কে নামা আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
আইনসভায় প্রস্তাবিত দুটি জরুরি ডিক্রির একটি ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত দুর্বল ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ স্থগিত রাখা, চুক্তি নবায়ন সহজ করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের বাড়ি কেনার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ। তবে বিরোধী দলীয় রক্ষণশীল পপুলার পার্টি ও ভক্সের পাশাপাশি কাতালোনিয়াভিত্তিক আঞ্চলিক দলের বিরোধিতায় বিল দুটি ১৭৮-১৭২ এবং ১৮৪-১৬৬ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। গত সেপ্টেম্বর মাসে ৮৭ বছর বয়সী এক প্রবীণ নারীকে অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ঘর থেকে উচ্ছেদ করার ঘটনায় এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও বিক্ষোভের বিস্তার থামেনি।
আন্দোলনকারীরা রাজধানী মাদ্রিদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান নিয়েছেন।
আবাসন অধিকার কর্মীদের মতে, আইন বাতিল হওয়ায় সাধারণ কর্মজীবী মানুষের জীবনযাপন আরও সংকটে পড়বে এবং এ কারণে তারা দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়েছেন। স্পেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশটিতে নতুন নির্মাণ ও চাহিদার মধ্যে অন্তত সাত লাখ আবাসনের বিশাল ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার হিসেবে গত এক বছরে বাড়ি কেনার খরচ বেড়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যটন এলাকায় বাড়িভাড়া ৮ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর বার্সেলোনা ও মাদ্রিদে প্রতি বর্গমিটারের মাসিক ভাড়া দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে প্রায় ২৪ ইউরো ও ২৩ ইউরোর কাছাকাছি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজেট ও সংস্কার প্রস্তাব আটকে যাওয়ায় সানচেজ সরকারকে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই সাধারণ নির্বাচনের দিকে যেতে হতে পারে।
