ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে শনিবার নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে সমাবেশ করতে গিয়ে শত শত আন্দোলনকারী পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের শীর্ষ দুই নেতাকে বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি নিজেদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভারতের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমাবেশস্থল যন্তর মন্তরে এই কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ, তবে আটক অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি তারা।
রাজধানীর রাজপথে এখন থমথমে পরিস্থিতি।
মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে আটক হন দলের অন্য দুই গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। আটকের পর তাদের দিল্লির বাইরে কোনো অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। দিল্লি যাত্রার আগে এক বার্তায় দীপকে জানিয়েছিলেন, কারাগারের ভয় দেখিয়ে বা মামলার হুমকি দিয়ে তাদের এই পথচলা থামানো যাবে না। ভারতের রাজনৈতিক দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত না হলেও আসন্ন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে নামে এই সংগঠনটি।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই মূলত এই সংঘাত।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে জানিয়েছে, সারা দেশে মৃত, দ্বৈত বা অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিতে এটি একটি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। ক্ষমতাসীন বিজেপিও কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করেছে।
বিক্ষোভ ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীজুড়ে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়। দিল্লির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং একাধিক ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। প্রধান সমাবেশস্থলে প্রবেশের প্রতিটি মুখে কাঁটাতারের শক্ত ব্যারিকেড তৈরি করে পথ আটকে দেয় পুলিশ। যন্তর মন্তরের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলেই তরুণদের জোরপূর্বক বাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হতে থাকে।
নেতৃত্ব আটক হলেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ আন্দোলনকারীরা। দীপকে আটক হওয়ার পর আন্দোলনের দায়িত্ব পাওয়া সমন্বয়ক অজিঙ্কা শিন্ডে এক ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছেন, পুলিশ যেখানেই পথ আটকাবে সেই স্থানটিকেই আন্দোলনের কেন্দ্র বানিয়ে অবস্থান নিতে হবে। আটক হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে শিক্ষার্থী আন্দোলনকারী নেহা বোরাও জমায়েত ধরে রাখার আহ্বান জানান। সাবিকা মুজাফফর নামের এক তরুণী জানান, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রস্তুতি নিয়েই তিনি ও তার মা রাজপথে নেমেছিলেন। কথা শেষ করার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তাকেও পুলিশ তুলে নিয়ে যায়।
চলতি বছরের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে রসিকতা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার পর বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস ও জবাবদিহির দাবিতে তরুণদের ব্যাপক সাড়া পান। এর আগে গত জুলাই মাসে একটানা আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনায় বড় রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছিল সংগঠনটি।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীতে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত জমায়েত ঠেকাতে নিরাপত্তা তল্লাশি ও সতর্কতামূলক নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
