মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ২০২৬: ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে লস অ্যাঞ্জেলেসে উত্তেজনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৫, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

বিশ্বকাপ ২০২৬: ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে লস অ্যাঞ্জেলেসে উত্তেজনা

Photo: Collected

লস অ্যাঞ্জেলেসের লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়ামে আজ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ জি-এর ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইরান। এই ম্যাচটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ইরানীয় বসতি লস অ্যাঞ্জেলেসে কেবল ফুটবলের উত্তাপই নেই, বরং তৈরি হয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা। স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ এবং স্টেডিয়ামের ভেতরে সমর্থন জানানো নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র মতপার্থক্য। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও আল জাজিরার তথ্যমতে, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি বিরোধিতা এবং জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি আবেগের সংঘাত এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকা, যা স্থানীয়ভাবে তেহরানজেলি হিসেবে পরিচিত, সেখানে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগের পতাকা ও রাজা পাহলভির প্রতিকৃতি সম্বলিত অনেক দোকানপাট ও বইয়ের দোকান রয়েছে। এই এলাকার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ সরকারের কঠোর বিরোধী। অনেক প্রতিবাদকারী মনে করেন, জাতীয় ফুটবল দলটি বর্তমান সরকারের একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এ কারণে স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগের লায়ন অ্যান্ড সান পতাকা বহন করার পরিকল্পনা করছেন, যা ফিফা কর্তৃক স্টেডিয়ামের ভেতরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে ইরানীয় প্রবাসীদের সবাই এই মতবাদের সাথে একমত নন। অনেকের মতে, ফুটবল কেবল একটি খেলা এবং রাজনীতির উর্ধ্বে গিয়ে তারা তাদের জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতে চান। রুজবেহ ফারাহানিপোর নামের এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন যে ইরানীয় সম্প্রদায় এখন দুই ভাগে বিভক্ত। এক দল মনে করছে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী এই দলকে সমর্থন জানানো ভুল, আবার অন্য দল মনে করছে এটি তাদের জাতীয় পরিচয় ও গৌরবের বিষয়। অনেক দর্শক রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্টেডিয়ামে গিয়ে নিজেদের দলের খেলা উপভোগ করতে আগ্রহী।

এই ম্যাচের প্রেক্ষাপটটি আরও জটিল কারণ এবারের আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন প্রবাসীদের মধ্যে এক ধরণের অস্বস্তি কাজ করছে, যারা একদিকে নিজেদের স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করেন এবং অন্যদিকে বর্তমান তেহরান সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই লস অ্যাঞ্জেলেসের এই পরিস্থিতির ওপর এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর রয়েছে। এই উত্তেজনা ফুটবল মাঠের স্বাভাবিক আমেজকে কতটা প্রভাবিত করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

banner
Link copied!