ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের তারকা উইঙ্গার রাফিনহার ইনজুরি শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ম্যাচে দলটিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম এবং বিবিসি স্পোর্ট নিশ্চিত করেছে। সেলসাওদের এই দাপুটে জয়ের ম্যাচে প্রথমার্ধেই এই তারকা খেলোয়াড় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় দলটির আসন্ন ম্যাচগুলোর কৌশল নিয়ে বড় ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ম্যাচের ঠিক ১২তম মিনিটে রাফিনহা বল জালে পাঠাতে সক্ষম হলেও রেফারি অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন। এর কিছুক্ষণ পর ম্যাচের ৪০তম মিনিটে তিনি নিজের ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে তীব্র অস্বস্তি অনুভব করলে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।
ম্যাচ শেষে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের ইতালীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তি রাফিনহার ইনজুরি নিয়ে কথা বলেন এবং এই মুহূর্তে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে আগামীকাল এই ফুটবলারের চোটাক্রান্ত স্থানে একটি বিষদ ও উন্নত মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই কেবল তার শারীরিক অবস্থা এবং মাঠে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা করা সম্ভব হবে। আনচেলত্তি ভক্তদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দলের সার্বিক প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
ব্রাজিলের স্থানীয় ক্রীড়া সাংবাদিকদের একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সেলোনার এই তারকা উইঙ্গার মূলত তার ডান পায়ের পুরোনো হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে ২০২৫-২০২৬ মরশুমের শেষভাগেও তিনি একই ধরণের পেশির ইনজুরিতে ভুগেছিলেন এবং মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল। গত মার্চ মাসেও হ্যামস্ট্রিংয়ের এই একই চোটের কারণে রাফিনহাকে প্রায় দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল যা তার ফর্ম এবং ফিটনেসের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে একই স্থানে পুনরায় আঘাত পাওয়ার ঘটনাটি টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে গভীরচিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো, স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে আগামী বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রাফিনহা মাঠে নামতে পারবেন কিনা নাকি তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিশ্রামে যেতে হবে। দলটির অন্যতম সেরা তারকা ফুটবলার নেইমারের দীর্ঘ দিন পর জাতীয় দলে ফেরার আনন্দের খবরের মাঝেই রাফিনহার ইনজুরি গভীর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেইমার দলে ফিরলে আক্রমণভাগ শক্তিশালী হবে বলে সমর্থকরা আশা করলেও রাফিনহার মতো একজন ফর্মে থাকা ফুটবলারের অনুপস্থিতি দলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিশ্বকাপ ফুটবলের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ পর্বে প্রতিটি ম্যাচই নকআউট রাউন্ডে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান এবং কোচ এখন বিকল্প খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করার কথা ভাবছেন।
ব্রাজিল দল তাদের ইতিহাসে ৪১তম বার কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল করার মাইলফলক স্পর্শ করার দিনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাফিনহা বাছাইপর্বে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫টি গোল করে বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড এনড্রিক এই ম্যাচে তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে মাঠে নামলেও রাফিনহার অভাব পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। টিম ম্যানেজমেন্ট এখন রবিবারের মেডিকেল রিপোর্টের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে যা দলের পরবর্তী পথচলা নির্ধারণ করবে।
