পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ এক-এক গোলে ড্র করার পর তীব্র সমালোচনার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের মনোবল চাঙা রাখার একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বলে রয়টার্স এবং বিবিসি স্পোর্ট নিশ্চিত করেছে। বিশ্বমঞ্চের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আল নাসর তারকাকে নিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী থাকলেও প্রথম ম্যাচে তিনি নিজের চেনা ছন্দ হারিয়ে সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ ছিলেন। দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করার পর এই কিংবদন্তি ফুটবলারকে football বোদ্ধা ও সমর্থকদের একাংশের কাছ থেকে তীব্র সমলোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এমনকি তার এই দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে তাকে পরবর্তী ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার জোরালো দাবিও উঠেছে যা ফুটবল অঙ্গনে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে।
ম্যাচ শেষে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজ্ঞ এই পর্তুগিজ তারকা অত্যন্ত ইতিবাচক মানসিকতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে পর্তুগাল যেভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চেয়েছিল তা আশানুরূপভাবে সম্পন্ন হয়নি। তবে সামনের ম্যাচগুলো নিয়ে তিনি এখনও অত্যন্ত আশাবাদী এবং দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সমালোচনার জবাবে রোনালদো স্পষ্টভাবে বলেন যে বিশ্বকাপ এখনও শেষ হয়ে যায়নি, তাই সবাইকে মাথা উঁচু রেখে দ্রুত পরের ম্যাচের ওপর পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। সমর্থকদের একটি বড় অংশ তার এই সময়োচিত মন্তব্যকে দলের অভ্যন্তরীণ আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার এবং তরুণ খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করার একটি সফল চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
পর্তুগাল দলের প্রধান কোচ রবার্তো মার্টিনেজ অবশ্য এই কঠিন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণভাবে রোনালদোর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তার মাঠের ভূমিকার পক্ষে জোরালো যুক্তি দেখিয়েছেন। অধিনায়ককে ম্যাচ থেকে তুলে না নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কোচ বলেন যে এমন একটি বড় ম্যাচে বিশ্বের সেরা গোলদাতাকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। দলের যখন একটি ব্যাকুল গোলের প্রয়োজন হয়, তখন এই ধরণের অভিজ্ঞ ও বিশ্বমানের স্ট্রাইকারই মাঠে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে তিনি মনে করেন। মার্টিনেজ পুরো নব্বই মিনিট রোনালদোকে মাঠে রাখার নিজের কৌশলগত সিদ্ধান্তের সপক্ষে এভাবেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কার সাফাই গেয়েছেন এবং তার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন।
যা কম স্পষ্ট তা হলো, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিরুদ্ধে রোনালদোর এই জাদূহীন পারফরম্যান্সের পর দল আগামী ম্যাচগুলোতে তাদের চেনা ছন্দে ফিরতে পারবে কিনা। পুরো ম্যাচে তিনি খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি এবং পুরো নব্বই মিনিটে মাত্র পঁচিশটি টাচ বা বল স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে তিনটি শট নিলেও তার একটিও অন টার্গেট বা লক্ষ্য বজায় রাখতে পারেনি যা তার মানের একজন স্ট্রাইকারের জন্য বেশ নজিরবিহীন। এতসব ব্যর্থতার মাঝেও তিনি চিরপ্রতিদ্বন্দী আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সাথে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অনন্য কীর্তি ও রেকর্ড গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বর্তমানে ১৪৩টি গোল নিয়ে তিনি এখনও পর্তুগালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি নিজের দখলে রেখেছেন। পর্তুগাল এখন গ্রুপ পর্বে তাদের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার জন্য টেক্সাসের অনুশীলন ক্যাম্পে কঠোর পরিশ্রম করছে।
