রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ২০২৬: জার্মানি বনাম আইভরি কোস্ট মহারণ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২০, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

বিশ্বকাপ ২০২৬: জার্মানি বনাম আইভরি কোস্ট মহারণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে শনিবার কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও আফ্রিকান পরাশক্তি আইভরি কোস্ট মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। গ্রুপ ই-এর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি উভয় দলের জন্যই নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ সুগম করার এক বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুই দলই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ায় এই ম্যাচটি গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

জার্মানি তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে এক বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে, যেখানে তারা টুর্নামেন্টের নবাগত দল কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে। ফক্স স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে কাই হাভার্টজ জোড়া গোল করেন এবং ফিলিক্স নমেচা, নিকো শ্লটারবেক, জামাল মুসিয়ালা, নাথানিয়েল ব্রাউন ও ডেনিজ উনডাভ একটি করে গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেই ম্যাচে পুরো নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল এবং ২৬টি শট নিয়েছিল যার মধ্যে ১১টি ছিল অন-টার্গেট। আন্তর্জাতিক অবসর ভেঙে ফিরে আসা ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার এই ম্যাচে জার্মানির জার্সিতে মাঠে নেমে নতুন নজির স্থাপন করেছেন।

অন্যদিকে আফ্রিকান পরাশক্তি আইভরি কোস্ট তাদের প্রথম ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচটি দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর ৯০ মিনিটে আমাদ দিয়ালো এক দুর্দান্ত গোল করে দলের জন্য পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন। উইলফ্রেড সিঙ্গোর চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে আসা এই গোলটি আইভরি কোস্টকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রেখেছে। জার্মানির শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে এই জয় আফ্রিকান দলটির আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই দুই দলের মধ্যকার লড়াইটি গ্রুপ ই-এর ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জার্মানি তাদের শেষ নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে টানা জয় পেয়ে অপরাজিত অবস্থায় এই টুর্নামেন্টে এসেছে। অন্যদিকে আইভরি কোস্ট তাদের তারুণ্য ও শারীরিক শক্তির সমন্বয়ে যেকোনো পরাশক্তিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার জন্য উভয় দলই এই ম্যাচটিকে ফাইনালের মতো গুরুত্ব সহকারে দেখছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো দুই দলের কোচ এই ম্যাচে কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করবেন কারণ জার্মানির আক্রমণভাগ যেমন ছন্দে রয়েছে তেমনি আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগও ইকুয়েডরের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণ করেছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে পরবর্তী রাউন্ডে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো যেতে পারে বলে ফক্স স্পোর্টসের ক্রীড়া বিশ্লেষকরা আভাস দিয়েছেন। দুই দলের খেলোয়াড়রা এই গাণিতিক সমীকরণ মাথায় রেখে মাঠে নামবেন এবং নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

বিশ্বকাপের এই আসরে টরন্টোর দর্শকদের উপস্থিতিতে এই ম্যাচটি একটি ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দিতে পারে। ফিফার তথ্য অনুসারে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা হলেও ২০২৬ সালের এই আসরে জার্মানিকে শুরু থেকেই অন্যতম প্রধান শিরোপা দাবিদার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। টরন্টো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতি খেলোয়াড়দের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন গ্রুপ পর্বের এই ব্লকবাস্টার লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল দেখার জন্য।

banner
Link copied!