শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপ কোয়ার্টারফাইনাল: নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ড লড়াই

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১০, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

বিশ্বকাপ কোয়ার্টারফাইনাল: নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ড লড়াই

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর কোয়ার্টারফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নরওয়ে এবং ইংল্যান্ড। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটিকে ঘিরে ফুটবল প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নরওয়ে দীর্ঘ আঠাশ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবারের আসরে চমক দেখিয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড তাদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। উভয় দলের লক্ষ্য এখন সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।

নরওয়ের জন্য এবারের বিশ্বকাপ এক রূপকথার গল্পের মতো। ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টারফাইনালে উঠে আসা দলটি পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিয়েছে। নরওয়ের বড় তারকা এরলিং হলান্ড তার দুর্দান্ত গোল করার ক্ষমতা দিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকদের নজর কেড়েছেন। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমে তিনি গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে রয়েছেন। গোলপোস্টের সামনে হলান্ডের ক্ষিপ্রতা এবং তার দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নরওয়েকে এবারের আসরের ডার্ক হর্স হিসেবে পরিচিত করেছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙার মূল চাবিকাঠি হিসেবে হলান্ডের ওপরই ভরসা রাখছেন নরওয়ের কোচ ও সমর্থকরা।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলের মূল ভরসা হ্যারি কেন এবং জুড বেলিংহাম। গত কয়েকটি ম্যাচে দলের এগারোটি গোল এসেছে মূলত তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থেকে। মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টারফাইনালে ওঠা ইংল্যান্ড দলের রক্ষণভাগ নিয়ে অবশ্য কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। পাঁচটি ম্যাচে খেলে তারা মাত্র দুইবার কোনো গোল না খেয়ে মাঠ ছেড়েছে। এই রক্ষণভাগের দুর্বলতা নরওয়ের শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডের কোচিং স্টাফরা শেষ মুহূর্তের কৌশলে রক্ষণভাগের সেই ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করছেন।

ম্যাচটি কেবল দুই দলের লড়াই নয়, বরং দুই অসাধারণ স্ট্রাইকারের দ্বৈরথও বটে। একদিকে এরলিং হলান্ড, অন্যদিকে হ্যারি কেন। বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে কার গোল করার ক্ষমতা দলটিকে এগিয়ে নেবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। ইংল্যান্ডের ফুটবলার বুকায়ো সাকা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তারা প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং ভালো ফুটবল খেলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। দলের অভিজ্ঞতা তাদের কিছুটা এগিয়ে রাখলেও নরওয়ের আত্মবিশ্বাস এবং জয়ের ক্ষুধা এই লড়াইকে সমানে সমান করে তুলেছে।

টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই দলের রক্ষণাত্মক কৌশল এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ম্যাচটির ভাগ্য নির্ধারণ করবে। মায়ামির তীব্র গরম এবং আর্দ্রতা উভয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে যারা মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের মঞ্চে টিকে থাকবে। পুরো ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে শনিবারের এই হাই ভোল্টেজ লড়াইয়ের দিকে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ইতিহাসের পাতায় এই ম্যাচটি কোন দলের জন্য নতুন অধ্যায় যোগ করবে, তা জানতে কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা মাত্র।

banner
Link copied!