মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক প্যানেলে বড় রদবদল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৫, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক প্যানেলে বড় রদবদল

ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) তাদের জাতীয় দল গঠনের প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। গত শীতকালীন অ্যাশেজ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারের পর ব্যাকরুম স্টাফে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে নতুন জাতীয় নির্বাচক নিয়োগের চূড়ান্ত সাক্ষাৎকার। বিবিসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদের জন্য ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সাবেক তারকা ক্রিকেটারের নাম শোনা যাচ্ছে। লূক রাইট ব্যক্তিগত কারণে নির্বাচক প্যানেল থেকে পদত্যাগ করার পর থেকেই বোর্ড এমন একজনকে খুঁজছে যিনি আধুনিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যান ও মাঠের পারফরম্যান্সের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন।

নির্বাচক নিয়োগের এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফাস্ট বোলার স্টিভেন ফিন এবং ড্যারেন গফ। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে ফিনকে নিয়ে বোর্ডের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সফল অধিনায়ক স্যার অ্যালেস্টার কুক এই পদের লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচকের পদটি এখন আর কেবল দল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় শনাক্তকরণ কাঠামোর প্রতিটি স্তরে যুক্ত থাকতে হবে। এর মধ্যে থাকবে টেস্ট ও সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচনে পরামর্শ দেওয়া, লায়ন্স স্কোয়াড নির্বাচন করা এবং কাউন্টি দলগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।

আসন্ন ৪ জুন লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজের জন্য দল নির্বাচনে নতুন নির্বাচকের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ মে-র দিকে ইংল্যান্ডের স্কোয়াড ঘোষণা করার কথা রয়েছে। বর্তমান অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের আক্রমণাত্মক ধারার ক্রিকেটের সাথে মানানসই খেলোয়াড় খুঁজে বের করাই হবে নতুন নির্বাচকের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ওপেনার জাক ক্রোলির জায়গায় নতুন কাউকে স্থলাভিষিক্ত করা নিয়ে ক্রিকেট মহলে জোর আলোচনা চলছে। ডারহামের এমিলিও গে এবং সমারসেটের জেমস রিও-র নাম নির্বাচকদের ভাবনায় জোরালোভাবে রয়েছে।

ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেখা গেছে যে তারা কাউন্টি ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের চেয়ে খেলোয়াড়দের সামর্থ্য বা ‍‍`অ্যাট্রিবিউটস‍‍`-কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বেন ডাকেট বা জেমি স্মিথের মতো খেলোয়াড়রা এই প্রক্রিয়ায় সফল হলেও ড্যান লরেন্স বা জশ হালের মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো খুব একটা কাজে আসেনি। অ্যাশেজ সিরিজের সময় ইংল্যান্ডের স্পিন বিভাগ নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা এড়াতে নতুন নির্বাচককে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। লর্ডস টেস্টের আগে শোয়েব বশির বা উইল জ্যাকসের মধ্যে কাকে মূল স্পিনার হিসেবে রাখা হবে, সেই বিতর্কের অবসান ঘটানোই হবে বড় কাজ।

এপ্রিল মাসে এই পদের জন্য প্রায় ৮০ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর এখন হাতেগোনা কয়েকজনকে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে। ইসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এমন একজনকে খুঁজছে যার আন্তর্জাতিক ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রয়েছে এবং যিনি আধুনিক ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করতে দক্ষ। জাতীয় নির্বাচকের পদটি একটি পূর্ণকালীন পেশা হওয়ায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ক্রিকেটের অন্য সব ধরনের বাণিজ্যিক বা পরামর্শক দায়িত্ব থেকে সরে আসতে হবে। শেফিল্ড ও লফবরার ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগেই ইংল্যান্ড তাদের নতুন অভিভাবককে চূড়ান্ত করতে চায়।

banner
Link copied!