মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

আমেরিকায় ফসলের মারাত্মক পোকা দমনে নামল পোষা কুকুর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

আমেরিকায় ফসলের মারাত্মক পোকা দমনে নামল পোষা কুকুর

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করা এক ধরনের আক্রমণাত্মক পোকার ডিম খুঁজে বের করতে এবার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পোষা কুকুরগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। মূলত চীন ও ভিয়েতনামে উৎপত্তিস্থল থাকা এই ক্ষতিকর পোকাগুলো গত এক দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে দেশটির কৃষি অর্থনীতি ও বাগান শিল্পের জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের পালিত কুকুরগুলো এখন এই পরিবেশগত হুমকি মোকাবিলায় এক অভিনব ও কার্যকর প্রতিরোধ বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি খামারে ফজি নামের এগারো বছর বয়সী একটি ল্যাব্রাডর মিক্স জাতের কুকুরকে নিয়ে এমন একটি নাগরিক বিজ্ঞান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে, যা গবেষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ছোটবেলায় সেবা প্রদানকারী কুকুর হিসেবে প্রশিক্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলেও কুকুরটি এখন পোকার ডিম শনাক্ত করার বিশেষ দক্ষতায় দারুণ পারদর্শিতা দেখাচ্ছে। তার মালিক স্কট হার্স্ট জানিয়েছেন যে ঝোপঝাড়ের ভেতরে মুখ গুঁজে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই পোকার ডিমগুলো খুঁজে বের করতে ফজি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

আটত্রিশ মিলিমিটার আকৃতির এই লাল ডানার পোকাগুলো বাতাসের বেগে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং যানবাহনের উইন্ডস্ক্রিনের সাথে আটকে থেকে দূরদূরান্তে পৌঁছে যায়। এই পোকাগুলো উদ্ভিদের কান্ড থেকে রস চুষে খাওয়ার পর এক ধরনের আঠালো মিষ্টি পদার্থ ত্যাগ করে, যা গাছের পাতায় কালো ছাতা রোগ সৃষ্টি করে ফসল নষ্ট করে দেয়। উত্তর আমেরিকার সত্তরটিরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদের ওপর আক্রমণ চালানো এই পোকাগুলোর কারণে ইতিমধ্যে পেন্সিলভেনিয়া ও ভার্জিনিয়া রাজ্যের কৃষি ও কাঠ শিল্পে কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা অনুযায়ী, যদি এই পোকার বিস্তার সফলভাবে রোধ করা না যায় তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা ক্যালিফোর্নিয়ার সুবৃহৎ দ্রাক্ষাক্ষেত্র এবং মার্কিন মদের বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। পেশাদার স্নিফার বা গন্ধ শুঁকে শনাক্তকারী কুকুরগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ পোষা কুকুরগুলোকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রশিক্ষিত করার এই উদ্যোগ নিয়েছে ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়। খামারের নিবিড় গাছের বেষ্টনীতে প্রশিক্ষিত পোষা কুকুরগুলো মানুষের তুলনায় তিন গুণ বেশি ডিমের থলে খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে।

ভার্জিনিয়া টেকের ফলিত প্রাণী আচরণ ও কল্যাণ ল্যাব পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে আশিটিরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী কুকুর-হ্যান্ডলার দল সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছে। গবেষক এরিকা ফিউরবাখার ও স্যালি ডিকিনসনের মতে, সঠিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দিলে যেকোনো জাতের কুকুরই গন্ধ শনাক্তকরণে পেশাদার কুকুরদের সমান দক্ষতা অর্জন করতে পারে। ডিমের বিশেষ গন্ধের সাথে প্রিয় খাবারের পুরস্কার জুড়ে দিয়ে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা কুকুরগুলোকে কাজটিতে দারুণভাবে উৎসাহিত করে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো অতীতে অনুরূপ পোকার আক্রমণে মারাত্মক সংকটে পড়েছিল এবং তারা রাসায়নিক কীটনাশক ও ডিম ধ্বংসের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। মার্কিন গবেষকেরাও সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করেছেন যাতে কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়। সাধারণ মানুষের পোষা প্রাণীগুলো যে কেবল ঘরের সঙ্গী নয়, বরং পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এই উদ্যোগটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

banner
Link copied!