যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং দেশটির নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের কারণে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে ইরান। আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে চলা এই সংঘাতের ফলে তেহরানসহ পুরো দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কোটি কোটি মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তেহরানের একজন সাধারণ শিক্ষক সাঈদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে অনলাইনে বা সরাসরি চাকরির বাজারে যে ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে, তাতে বর্তমান ব্যয় মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির চেয়েও কম বেতনে দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মীরা। পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে গত এক বছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ছিয়াশি শতাংশের কাছাকাছি। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, দুগ্ধজাত পণ্য এবং মাংসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে ঠেকেছে।
দেশের এই নাজুক পরিস্থিতির জন্য চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্নীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার নীতিকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে মার্কিন অবরোধের কারণে দেশের তেল রপ্তানি বন্ধ রয়েছে এবং বহু কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয় মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে প্রশাসন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা গুরুত্বের সাথে চিন্তা করছে, যা নতুন করে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।
যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানের বাজারেও এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক তরুণ পড়াশোনা শেষ করেও উপযুক্ত আয়ের সুযোগ না পেয়ে খণ্ডকালীন বা অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চললেও নিকট ভবিষ্যতে কোনো বড় চুক্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ফলে যুদ্ধের এই অর্থনৈতিক মাশুল সবচেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে ইরানের সাধারণ পরিশ্রমী মানুষজনকে।
