রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর দূরপাল্লার ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যকে সরাসরি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে মস্কো, আল জাজিরা এবং বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে। লন্ডনে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ইউক্রেনের সামরিক যন্ত্রপাতিতে ব্রিটিশ সহায়তার গভীরতা যত বাড়বে, দেশটিকে তত চড়া মূল্য দিতে হবে।
লন্ডনের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে যে রাশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ও তেল শোধনাগারে হামলায় দুটি ব্রিটিশ কোম্পানির তৈরি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা দাবি করেছেন যে রোস্তভ অঞ্চলের কামেনস্কি প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় ব্রিটিশ যন্ত্রাংশযুক্ত ড্রোন দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন যে রুশ রাজধানীর দিকে সম্প্রতি শত শত ড্রোন ছোড়া হয়েছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের ড্রোন সরাসরি রুশ ভূখণ্ডে ব্যবহারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি আসার পরপরই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আন্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন যে কিয়েভের প্রতি লন্ডনের সামরিক ও কৌশলগত সমর্থন শতভাগ অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে রাশিয়ার অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য ইউক্রেনকে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে এবং এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
যা এখনও স্পষ্ট নয় তা হলো রাশিয়ার এই সতর্কবার্তা প্রত্যক্ষ সামরিক উত্তেজনার রূপ নেবে নাকি সাইবার কিংবা অপ্রত্যক্ষ দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ থাকবে।
রাশিয়ার সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই ফেদোরভ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে মস্কোর শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেই ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর স্থাপনাকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে মত দিচ্ছেন। এদিকে চলতি বছরের জুন মাসে ইউক্রেনের জন্য প্রায় পঁচাত্তর কোটি বিশ লাখ পাউন্ডের একটি নতুন সামরিক তহবিল ঘোষণা করেছিল যুক্তরাজ্য, যার আওতায় দেড় লাখের বেশি ড্রোন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
