সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

গ্রিস ইসরায়েল প্রতিরক্ষা চুক্তি সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারে সম্পন্ন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

গ্রিস ইসরায়েল প্রতিরক্ষা চুক্তি সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারে সম্পন্ন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র গ্রিস ইসরায়েলের সঙ্গে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। উম্মাহকণ্ঠ ডট কম-এর আন্তর্জাতিক ডেস্কের প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই চুক্তির আওতায় গ্রিস আগামী দুই হাজার উনত্রিশ সালের মধ্যে তাদের ইতিহাসে প্রথম সমন্বিত ও বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক সামরিক সমঝোতা চূড়ান্ত হলো। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে এটি তাদের দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তিগুলোর একটি।

চুক্তির আওতায় প্রকৌশলীরা গ্রিক ভূখণ্ডের জন্য একটি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ঢাল তৈরি করবেন। এতে রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস উৎপাদিত স্পাইডার সিস্টেম, ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের বারাক এমএক্স এবং ডেভিডস স্লিং প্রযুক্তি একীভূত করা হবে। পাশাপাশি কৌশলগত স্থানগুলোকে ড্রোন ও মানবহীন আকাশযান থেকে রক্ষা করতে রাজেলের ড্রোন ডোম সিস্টেম ক্রয়ের জন্য আরেকটি ত্রিশ মিলিয়ন ডলারের পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে গ্রিস। বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাতে আকাশ প্রতিরক্ষার গুরুত্ব নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি অস্ত্র রপ্তানি সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে চলমান সংঘাতের নানামুখী সমালোচনার মধ্যেও গত বছর দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি উনিশ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ত্রিশ শতাংশ বেশি। গ্রিসের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিকোস দেনদিয়াস চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে জানান যে আধুনিক যুদ্ধপদ্ধতি সামরিক প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। প্রযুক্তি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাইবার হুমকির মুখে পূর্ববর্তী প্রতিরক্ষা মতবাদগুলো বর্তমান বাস্তবতায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।

ইউরোপের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ফিনল্যান্ডের পর দ্বিতীয় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ হিসেবে ডেভিডস স্লিং ব্যবস্থা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিল গ্রিক সরকার। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং পূর্ব দিক থেকে আসা যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে দেশটি। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত এবং পূর্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে এই প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবেশী তুরস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বিরোধের কারণে গ্রিস তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে থাকে, যা অনেক ন্যাটো মিত্র দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

banner
Link copied!