বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সেনেগালে ধরপাকড়

আইন কড়াকড়ি করার পর সেনেগালে আটক তিন শতাধিক মানুষ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

আইন কড়াকড়ি করার পর সেনেগালে আটক তিন শতাধিক মানুষ

প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অন্তত ৩২০ জনকে আটক করেছে সেনেগাল কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও এইচআইভি জাস্টিস নেটওয়ার্কের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের ১১ মার্চ দেশটির আইনপ্রণেতারা দণ্ডবিধি সংশোধন করেন। এই আইনি পরিবর্তনের ফলে সমকামিতার সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ।

সংশোধিত আইনে সমকামিতার প্রচার চালানো কিংবা সমকামী ব্যক্তি ও সংস্থাকে সহায়তা বা অর্থায়ন করার অপরাধে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ থেকে ৫০ লাখ সিএফএ ফ্রাঁ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সেনেগালে ১৯৬০-এর দশক থেকেই সমকামিতা নিষিদ্ধ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সমকামী অধিকার গবেষক লরিসা কোজুয়ে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ও সামাজিক লাঞ্ছনা বৃদ্ধির ভয়ে মানুষ তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি সেনেগাল সরকারের প্রতি এই দমনপীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী উসমান সোনকো উভয়েই সমকামিতাবিরোধী আইন আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বাজেটকৃত মোবাইল ফোনের তথ্য, তৃতীয় পক্ষের অভিযোগ এবং বিভিন্ন গোপন ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে দেশজুড়ে এই গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৪ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে কেবল তাদের এইচআইভি পজিটিভ অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ইচ্ছাকৃতভাবে এই রোগ ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাদের জোরপূর্বক পরীক্ষা করা হয়েছে।

আইনের এই পরিবর্তনের ফলে আইনজীবীদের মধ্যেও এক ধরণের ভীতি তৈরি হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দিলে নিজেরাও মামলার মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

চিকিৎসাকর্মীরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছেন, নতুন এই আইনি পরিস্থিতি মানুষকে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে নিরুৎসাহিত করছে। এইচআইভি জাস্টিস নেটওয়ার্কের পরামর্শক সিলভি বিউমন্ট সতর্ক করে বলেছেন যে ক্লিনিকগুলোতে রোগীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ইচ্ছাকৃতভাবে এইচআইভি ছড়ানোর অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন বিউমন্ট। অনেক আটক ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পর নিজের স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানতে পেরেছেন, অনেকের কাছ থেকে কনডম উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা এমন চিকিৎসাধীন ছিলেন যাতে রোগ ছড়ানোর কোনো সুযোগই ছিল না।

চলমান অপরাধ তদন্তের গোপন তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস করে দিচ্ছে পুলিশ, যার ফলে ব্যক্তিগত তথ্য ও এইচআইভি আক্রান্তের খবর প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। এর জেরে সামাজিক লাঞ্ছনা, পরিবার থেকে বহিষ্কার এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছেন অনেকে।

সমকামী সম্প্রদায়ের সদস্যরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছেন, এই অভিযানের কারণে মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেকে আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন, চলাচল সীমিত করেছেন কিংবা দেশত্যাগ করেছেন।

banner
Link copied!