সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ট্রাম্পের ইরান বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় স্পেনের জাফরান খাত ঝুঁকিতে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

ট্রাম্পের ইরান বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় স্পেনের জাফরান খাত ঝুঁকিতে

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সাথে বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরি হলে স্পেনের জাতীয় খাবার পায়েয়ার প্রধান উপাদান জাফরান সরবরাহ হুমকিতে পড়তে পারে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। স্পেনের জনপ্রিয় এই চালভিত্তিক পদটির স্বতন্ত্র হলুদ রঙ ও সুগন্ধের জন্য জাফরান অপরিহার্য। যদিও স্পেনের নিজস্ব কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে জাফরান উৎপাদিত হয়, তবুও দেশটির প্রধান অংশীদার হিসেবে ইরান থেকে প্রচুর পরিমাণে এই মসলা আমদানি করতে হয়।

গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক আঘাত হানার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এই শঙ্কার সৃষ্টি হয়। মার্কিন সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে ইরানের আর্থিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব হবে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ গত চার সেপ্টেম্বর তুরস্কের গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও ইরানের সব বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো রূপরেখা প্রকাশ করেনি।

স্পেনের প্রাচীন জাফরান রপ্তানকারী প্রতিষ্ঠান সিইএইই-এর জোসে লুইস গুরেরো আল জাজিরাকে জানান যে মার্কিন এই হুমকি তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তার মতে, তাদের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ ইরান, যেখান থেকে মসলা এনে তারা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে স্পেনের রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্থা আইসিইএক্স-এর কৃষি খাদ্য বিভাগের পরিচালক মারিয়া নারানজো জানান যে ইউরোপে জাফরান আমদানির ক্ষেত্রে স্পেন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। বিগত দুই বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইরানের মোট জাফরান আমদানির তিন-চতুর্থাংশই স্পেনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

নারানজো আরও বলেন যে ইরানের সাথে বাণিজ্য প্রবাহে যেকোনো ধরনের সাময়িক ব্যাঘাত ঘটলে তা সরাসরি স্পেনের সাধারণ ভোক্তাদের জন্য জাফরানের তীব্র সংকট তৈরি করবে না। তবে যারা এই মসলা আমদানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিতরণের সাথে যুক্ত, তাদের জন্য এর প্রভাব বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত স্পেনের জাফরান বাণিজ্যের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও তিনি আশ্বস্ত করে জানান যে তাদের স্থানীয় উৎপাদিত জাফরান মজুদ রয়েছে এবং পায়েয়া পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই কৌশল কতটুকু সফল হবে তা মূলত নির্ভর করছে চীনের ওপর, কারণ চীন হলো ইরানের প্রধান তেল ক্রেতা ও শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইতিমধ্যে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে থাকবে তারা অংশীদারিত্বের সুফল পাবে, আর যারা ইরানি শাসকগোষ্ঠীর সাথে যুক্ত থাকবে তাদেরও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার ভাগীদার হতে হবে। অর্থনৈতিক দিক থেকে পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্যের তুলনায় স্পেনের সাথে ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে কম হলেও মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রায় চল্লিশ শতাংশই আসে জাফরান আমদানির মাধ্যমে। এর আগে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা বাজেট এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য তৈরি হলেও স্থানীয় শেফ ও রন্ধনশিল্পীরা আত্মবিশ্বাসী যে স্পেনের এই ঐতিহ্যবাহী খাবার কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

banner
Link copied!