ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থার একমাত্র কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি বর্তমানে তীব্র হুমকির মুখে রয়েছে বলে আল জাজিরা এবং এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রীর সাম্প্রতিক হুমকির পর ঐতিহাসিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কমানদিয়া এলাকার এই কেন্দ্রটি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা অর্জনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি সামরিক ও পুলিশ সদস্যরা কেন্দ্রটিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় চল্লিশ জন কর্মীকে বের করে দেয়। আল জাজিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটিতে অন্তত ছয়বার অভিযান চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে এই জমির ওপর তাদের অধিকার রয়েছে এবং এটি জেরুজালেমের পৌরসভার হাতে হস্তান্তর করা হবে। তবে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমের এই ভূমি দখলকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের অংশ এবং এর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম এখতিয়ার নেই।
১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রে প্রতি বছর শত শত ফিলিস্তিনি শরণার্থী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। এখান থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ প্রায় নব্বই শতাংশ, যা পশ্চিম তীরের উচ্চ বেকারত্বের হার বিবেচনায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
স্থানীয় প্রবীণ ও শিক্ষার্থীরা এই ধরনের পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও শরণার্থী সংকটের প্রতীক মুছে ফেলার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
মানবাধিকার আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন যে এই সুবিধা বন্ধ করা তরুণদের ভবিষ্যৎকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।
পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত থমথমে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।
