অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাপক অগ্রগতি হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগটি তৃতীয় বা চতুর্থ ধাপে গিয়ে শনাক্ত হয়। স্তন, কোলন, প্রস্টেট ও ফুসফুসের ক্যানসারের পাশাপাশি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারও চিকিৎসকদের বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক জানিয়েছেন যে প্রতিদিনের সাধারণ জীবনধারায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে অনেকটা সাহায্য হতে পারে।তারা মূলত তিনটি সহজলভ্য ঘরোয়া পানীয় নিয়মিত পানের পরামর্শ দিয়েছেন।
মাচা গ্রিন টি বা সবুজ চায়ে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পলিফেনল এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো মানুষের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এক কাপ গরম পানিতে এক চা চামচ মাচা চায়ের গুঁড়া মিশিয়ে খুব সহজেই এই পানীয়টি তৈরি করা যায়। স্বাদ বাড়াতে এতে সামান্য ব্রাউন সুগার ও দুধ মেশানো যেতে পারে।
শাকসবজিতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ফাইবার শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। ভিটামিন এ, সি, ই, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং আয়রনে ভরপুর সবুজ স্মুদি ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। পালং শাক, শসা এবং কলার টুকরো একসঙ্গে ব্লেন্ড করে সামান্য আদা ও গোলমরিচের গুঁড়া ছড়িয়ে এটি পান করা যায়। প্রতিদিন এই স্বাস্থ্যকর পানীয়টি খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়।
ক্যানসার প্রতিরোধে হলুদে থাকা কারকিউমিন নামক উপাদানটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এক গ্লাস গরম গরুর দুধ বা ওটসের দুধের সঙ্গে এক চা চামচ হলুদ, একটি আস্ত গোলমরিচ এবং এক টুকরো দারুচিনি মিশিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিতে হবে। পুষ্টিবিদদের মতে গোলমরিচে থাকা ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং পিপারিন কারকিউমিনের কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই পানীয় পানের অভ্যাস মারাত্মক সব রোগ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।
