বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৬, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

বাংলাদেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে দুজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং বাকি পাঁচজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে ১ হাজার ৬৫৪ জন শিশু হাম ও সংশ্লিষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। সেই সময় থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৮ জনে। এর মধ্যে ছয় হাজার ৯৯ জন শিশু আনুষ্ঠানিকভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬৮ জন শিশু। একই সময়ে সারা দেশে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৪৪ হাজার ২৬০ জন ছাড়িয়েছে যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলছে। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই এবং আক্রান্ত শিশুদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এদিকে হাসপাতালগুলোতে ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ হাজার ৮৮৫ জন শিশু। তবে আশার কথা হলো সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার হারও সন্তোষজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ২২৩ জন শিশু সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে টিকা দেওয়ার হার কমে যাওয়া অথবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণেই হয়তো এবারের সংক্রমণ এতোটা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যাতে সংক্রমণের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।

অভিভাবকদের প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শিশুর শরীরে জ্বর, লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় জনঘনত্ব বেশি সেখানে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সামাজিক সচেতনতা এবং শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

banner
Link copied!