দখলকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের দক্ষিণে অবস্থিত কুসরা গ্রামে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের ভয়াবহ অবরোধ আজ এক সপ্তাহ পূর্ণ করেছে, আল জাজিরা ও রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। গত নয়ই আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে গ্রামের রাস আল আইন এলাকার বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের নিজেদের বাড়িতে চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বসতিস্থাপনকারীরা বাড়িগুলোর চারপাশে অবস্থান নিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, যার ফলে তীব্র গরমের মধ্যে খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
আবু রিদা ও হাসান পরিবারের প্রায় পনেরোজন সদস্য এই অবরুদ্ধ বাড়িগুলোতে বসবাস করছেন, যার মধ্যে সাত বছরের কম বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে আশেপাশের অবৈধ আউটারপোস্ট থেকে আসা বসতিস্থাপনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পত্তিগুলো জবরদখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য করে এবং সবাইকে একটি মাত্র বাড়ির মধ্যে গাদাগাদি করে থাকতে নির্দেশ দেয়। একই দিনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি এই অবরোধকে ইসরায়েলি সন্ত্রাসবাদ বলে অভিহিত করেছেন এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে চলা এই উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পুরো এলাকাটিকে বন্ধ সামরিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে এবং বিদেশি বা স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীদের অবরুদ্ধ পরিবারের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয়। আল জাজিরার প্রতিবেদক নওর ওদেহ জানিয়েছেন যে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সামরিক বাহিনীর সাথে সমন্বয় করার পর রোববার সকালে কিছু ত্রাণসামগ্রী ভেতরে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরের বসতিগুলো অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান ডানপন্থী সরকারের আমলে এই ধরনের জবরদখল ও হামলা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিগত দেড় বছরে পশ্চিম তীরে তিন হাজারের বেশি বসতিস্থাপনকারী হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার এই ধরনের বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে। অবরুদ্ধ পরিবারগুলো অবিলম্বে এই অমানবিক অবরোধ তুলে নেওয়ার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর এই নিপীড়ন সহজে থামছে না।
