সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কেন আরাফার দিন বছরের শ্রেষ্ঠ দিন?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৫, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

কেন আরাফার দিন বছরের শ্রেষ্ঠ দিন?

মুসলিম উম্মাহর কাছে আরাফার দিনটি এক অনন্য আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। জিলহজ মাসের নবম এই দিনে মক্কার অদূরে আরাফাতের ময়দানে হাজিরা সমবেত হন, যা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন হিসেবে বিবেচিত। এই দিনের মাহাত্ম্য কেবল হজ পালনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য এটি এক পরম প্রাপ্তির সময়।আরাফাতে অবস্থানই হজের মূল প্রাণ।

হাদিসের আলোকে এই দিনটিকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর কাছে আরাফার দিনের চেয়ে উত্তম আর কোনো দিন নেই। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত কুরবানির ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই দিনটিকে ঈদের দিন বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামের পূর্ণতার ইতিহাসে আরাফার দিন একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক; কারণ এই দিনেই নাজিল হয়েছিল দ্বীন ও নিয়ামত পরিপূর্ণ হওয়ার ঘোষণা— (সুরা মায়েদা, ৫:৩)।

জাহান্নাম থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে আরাফার দিন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিনে আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে (ইবনে মাজাহ, ৩৯১৪)। যারা হজ পালন করছেন না, তাদের জন্য এই দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (স.) জানিয়েছেন, আরাফার দিনের রোজা বিগত এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে কাজ করে (সহিহ মুসলিম, ১১৬২)।

দোয়া কবুলের ক্ষেত্রেও আরাফার দিন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া (সুনানে তিরমিজি, ৩৫৮৫)। এই দিনে তাওহিদের জিকির ও নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া বান্দার জন্য আল্লাহর রহমত লাভের সেরা সুযোগ। ইসলামি শরিয়তে তাই এই দিনটি ইবাদত, জিকির ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সন্ধিক্ষণ।

পরিশেষে, আরাফার দিন কেবল একটি ঐতিহাসিক তারিখ নয়, এটি প্রতিটি মুমিনের জন্য নিজের জীবনের সমস্ত পঙ্কিলতা ধুয়ে ফেলার মোক্ষম সুযোগ। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এই বিশেষ দিনে প্রতিটি মুসলমানের জন্য দোয়া ও ইবাদতে মশগুল থাকা একান্ত কর্তব্য।

banner
Link copied!