সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণে ৪ সাক্ষী: বিভ্রান্তি বনাম বাস্তবতা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৭, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণে ৪ সাক্ষী: বিভ্রান্তি বনাম বাস্তবতা

ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণে চার সাক্ষী বাধ্যতামূলক—এই ধারণাটি আইনগতভাবে ভুল এবং ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা ইসলামি আইনশাস্ত্র ও ঐতিহাসিক নজিরের আলোকে স্পষ্ট করেছেন আলেমরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিতর্কে প্রায়ই এই অভিযোগ শোনা যায় যে, ইসলামে ধর্ষণের শিকার নারী চারজন পুরুষ সাক্ষী আনতে না পারলে তাকে উল্টো বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু ইসলামি শরিয়াহর প্রকৃত বিধিবিধান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চারজন সাক্ষীর এই শর্তটি মূলত জিনা বা ব্যভিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা মিথ্যা অপবাদ থেকে নিরপরাধ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে। ধর্ষণকে ইসলামি আইনবিদরা সাধারণ জিনা হিসেবে দেখেন না, বরং একে একটি জঘন্য সহিংস অপরাধ ও জবরদস্তিমূলক জুলুম হিসেবে গণ্য করেন।

জিনা ও ধর্ষণের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। জিনা হলো এমন যৌন সম্পর্ক যা উভয়ের সম্মতিতে সংঘটিত হয়। অন্যদিকে ধর্ষণ হলো বলপ্রয়োগ ও জবরদস্তির মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ। এই পার্থক্যের কারণে ফকিহ বা ইসলামি আইনবিদরা ধর্ষণকে ইগতিসাব বা জবরদখল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। ইমাম মালিকসহ অনেক আইনবিদ ধর্ষণকে জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী অপরাধ বা হিরাবাহ হিসেবে দেখেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিচারিক নজিরে দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগে কোনো নারীকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল, যেখানে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর প্রয়োজন পড়েনি।

আধুনিক যুগে ধর্ষণের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিএনএ পরীক্ষা এবং পারিপার্শ্বিক আলামত গ্রহণ করা ইসলামি আইনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোরআনের সুরা আন-নাহল এবং হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় জবরদস্তির শিকার ব্যক্তির ওপর কোনো দোষ আরোপ করা হয়নি। ফলে ধর্ষণের মতো সহিংস অপরাধের বিচারে চারজন সাক্ষীর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা শরিয়াহর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এবং অপরাধীকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে আলামত ও পরিস্থিতিগত সাক্ষ্যই যথেষ্ট।

banner
Link copied!