প্রচণ্ড গরমের তীব্রতা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে অনেকেই কুলিং পাউডারের ওপর ভরসা করেন। গায়ে মাখার পরপরই মেন্থল বা কর্পূরের প্রভাবে স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে ঠান্ডা অনুভূতির সৃষ্টি করে। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনুভূতি একেবারেই কৃত্রিম এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি ত্বকের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।কুলিং পাউডার ত্বকের আর্দ্রতা ও সুরক্ষাকবচ নষ্ট করে।
পাউডারগুলো মূলত ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নেওয়ার কাজ করে, কিন্তু ঘাম হওয়া আটকাতে পারে না। যখনই ত্বকের ওপর পাউডারের স্তরের নিচে ঘাম ও ময়লা জমে, তখন তা লোমকূপের মুখ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এই স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের প্রজনন সহজতর হয়, যা র্যাশ বা চুলকানির মতো সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।প্রসাধনী বিশেষজ্ঞদের মতে, কুলিং পাউডারের কৃত্রিম সুগন্ধি ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলে।
যাদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল, তাদের জন্য মেন্থলযুক্ত প্রসাধনী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশে বা আন্ডারআর্মসে নিয়ম করে পাউডার ব্যবহারের ফলে দীর্ঘমেয়াদী ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসকরা মনে করেন, সাময়িক আরামের চেয়ে ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা রক্ষা করা অনেক বেশি জরুরি।
তবে শরীর ঠান্ডা রাখার কিছু কার্যকর বিকল্প উপায় রয়েছে। গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে শরীরের ভাঁজগুলো খুব ভালো করে শুকিয়ে রাখা জরুরি। নিয়মিত সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরলে ত্বক সহজে শ্বাস নিতে পারে। ঘামাচি বা র্যাশের প্রবণতা থাকলে পাউডারের বদলে জিঙ্ক অক্সাইড যুক্ত ক্রিম অথবা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ত্বকের জন্য নিরাপদ ও প্রশান্তিদায়ক।
