রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

হলিউড চলচ্চিত্র পর্যালোচনা

দ্য সোশ্যাল রেকনিং চলচ্চিত্রে ফেসবুকের গোপন তথ্য ফাঁস

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

দ্য সোশ্যাল রেকনিং চলচ্চিত্রে ফেসবুকের গোপন তথ্য ফাঁস

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ফেসবুকের উত্থান নিয়ে তৈরি অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্কের পরবর্তী পর্ব দ্য সোশ্যাল রেকনিং। পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার অ্যারন সর্কিনের পরিচালনায় এক ঘণ্টা ৫২ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ড্রামা ঘরানার চলচ্চিত্রে প্রযুক্তি জগতের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেপথ্য সংকটকে পর্দায় রূপ দেওয়া হয়েছে। তবে পর্দায় প্রতিষ্ঠানটির গোপন নথি ফাঁসের ঘটনা তুলে ধরা হলেও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের কাছ থেকে ছবিটি মিশ্র ও গড়পড়তা প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।

চলচ্চিত্রটিতে তীব্র নাটকীয় উত্তেজনার অভাব স্পষ্ট।

আখ্যানের সূচনা হয় ২০১৯ সালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সান ফ্রান্সিসকো ব্যুরোয় তদন্তকারী সাংবাদিক জেফ হরউইটজের যোগদানের মাধ্যমে। ফেসবুকের ভেতরের কর্মপদ্ধতি উদঘাটন করতে গিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সিভিক ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তথ্য ফাঁসকারী ফ্রান্সেস হাউগেনের সন্ধান পান। তাদের গোপন যোগাযোগের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে কীভাবে সাধারণ গ্রাহকদের চরমপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ গবেষণায় দেখা যায় যে কিশোরীদের মানসিক টানাপোড়েন ও উদ্বেগের ক্ষেত্রে ছবি শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটি নেতিবাচক ভূমিকা রাখছিল।

বাস্তবতার নিরিখে ছবির মূল দ্বন্দ্ব গভীর ছাপ ফেলতে পারেনি।

সিনেমাটিতে দুটি সমান্তরাল সময়রেখা দেখানো হয়েছে। এক প্রান্তে সাংবাদিক ও তথ্য ফাঁসকারীর আলোচনা এবং অন্য প্রান্তে মার্কিন সিনেটে শুনানির প্রস্তুতি নিতে থাকা মার্ক জাকারবার্গের অভ্যন্তরীণ চিত্র তুলে ধরা হয়। ফ্রান্সেস হাউগেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিকি ম্যাডিসন এবং জাকারবার্গ চরিত্রে দেখা গেছে জেরেমি স্ট্রংকে। আর সাংবাদিক জেফ হরউইটজের ভূমিকায় ছিলেন জেরেমি অ্যালেন হোয়াইট। তবে পুরো আখ্যানে জাকারবার্গের সঙ্গে তথ্য ফাঁসকারী বা তদন্তকারী প্রতিবেদকের কোনো ধরনের সরাসরি মোলাকাত বা সংঘাতের চিত্র দৃশ্যায়িত হয়নি।

বর্তমান সময়ে সিলিকন ভ্যালির প্রভাবশালী প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বদের কেন্দ্র করে নির্মিত একাধিক কাজের ধারাবাহিকতায় চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সিনেমা হলে প্রদর্শন শুরুর পর পর্যালোচকরা উল্লেখ করেছেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুরোনো হওয়ায় এটি দর্শকদের চিন্তায় নতুন কোনো ঝাঁকুনি দিতে সক্ষম হয়নি।

বাণিজ্যিক ধারায় জটিল প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মকে চিত্রনাট্যে রূপ দেওয়ার যে চেষ্টা নেওয়া হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ধীরগতির বর্ণনায় পর্যবসিত হয়েছে।

banner
Link copied!