আর্মেনিয়ার সাধারণ নির্বাচনে আজ রোববার ভোটাররা তাদের রায় প্রদান করছেন। এই নির্বাচন দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মূলত নিকোল পাশিনিয়ান সরকারের পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টা এবং এর বিপরীতে রাশিয়ার অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ভোটাররা তাদের পছন্দ বেছে নিচ্ছেন। বিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ককেশাসের তিন মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে রাশিয়া ও পশ্চিমের টানাপোড়েন ভোটারদের জন্য প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিকোল পাশিনিয়ান ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটিকে মস্কোর প্রভাব থেকে দূরে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং আজারবাইজানের সাথে শান্তি আলোচনা ত্বরান্বিত করেছেন। তার এই পদক্ষেপগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন পেলেও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাকে বেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। ২০২১ সালে তার জনসমর্থন ছিল ৫৪ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলের সংকট পাশিনিয়ানের জনপ্রিয়তা হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালে আজারবাইজান সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর প্রায় ১ লক্ষ জাতিগত আর্মেনীয় সেখানে বাস্তুচ্যুত হয়। বিরোধী দলগুলো পাশিনিয়ানকে আজারবাইজানের কাছে নতি স্বীকারের জন্য দায়ী করছে। বিশেষ করে নাগোরনো-কারাবাখের সাবেক নেতাদের মুক্তি এবং আজারবাইজানের সাথে শান্তি চুক্তির বিষয়ে তার অবস্থান জনমনে বিভক্তি তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী ৪৪ শতাংশ মানুষ শান্তি চুক্তি সমর্থন করলেও ৪১ শতাংশ এর বিরোধী।
নির্বাচনে পাশিনিয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সামভেল কারাপেতিয়ান। তিনি রাশিয়া থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন এবং বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গৃহবন্দী রয়েছেন। তার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা। বিরোধী দলগুলো মনে করে, রাশিয়ার সাথে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করাই আর্মেনিয়ার নিরাপত্তার একমাত্র পথ। তবে বিরোধীরা বিভক্ত থাকায় পাশিনিয়ানের জন্য চ্যালেঞ্জ সামলানো কিছুটা সহজ হচ্ছে।
নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে রাশিয়া কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করেছেন যে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে আর্মেনিয়াকে অর্থনৈতিক খেসারত দিতে হবে। রাশিয়া আর্মেনিয়ার ফুল, খনিজ পানি, কগনাক এবং তাজা শাকসবজি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। রাশিয়া এখনো দেশটির প্রধান বাণিজ্য অংশীদার এবং গত বছর আর্মেনিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৩৬ শতাংশ রাশিয়াভিত্তিক ছিল।
আর্মেনিয়ার সেন্টার ফর সোসিও-ইকোনমিক স্টাডিজের হাইকাজ ফানিয়ান মনে করেন, মস্কো নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে বর্তমানে আর্মেনিয়া তার সামরিক সরঞ্জামের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এনেছে। এখন দেশটির সামরিক আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশ ভারত, ফ্রান্স এবং চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে আসছে। এই নির্বাচনের ফলাফল দেশটির পররাষ্ট্রনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মানচিত্র বদলে দিতে পারে।
