মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

গাজা নীতি যেভাবে ট্রাম্পের ফেরার পথ তৈরি করেছিল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৩০, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

গাজা নীতি যেভাবে ট্রাম্পের ফেরার পথ তৈরি করেছিল

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতি যে অন্ধ সমর্থন জুগিয়েছিল, তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি করেছে বলে মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনে political বিশ্লেষকদের মধ্যে এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলছে। সাংবাদিক আকবর শহীদ আহমেদের লেখা একটি নতুন বইয়ের সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটি এই নেপথ্য কাহিনী সামনে এনেছে। বইটিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে হোয়াইট হাউজের অভ্যন্তরে জো বাইডেনের নীতি মার্কিন ডেমোক্রেটিক পার্টিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। ২০২৩ সালের সাতই অক্টোবরের পর থেকে মার্কিন নীয়মনীতি নির্ধারণকারীদের অবস্থান এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

ক্রসিং দ্য রেড লাইন শিরোনামের এই বইটিতে বাইডেন প্রশাসনের যুদ্ধসংক্রান্ত নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গোপন নথি ও বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। লেখক আকবর শহীদ আহমেদ দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি ও মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বইটিতে সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসন গাজায় নির্বিচার বোমা হামলার জন্য ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ ভারী অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল। হোয়াইট হাউজের অনেক নিজস্ব সরকারি বিশেষজ্ঞ এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তা এই ধ্বংসাত্মক নীতির তীব্র বিরোধিতা করলেও শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের কণ্ঠরোধ করেন। জো বাইডেন প্রকাশ্যে বারবার দাবি করেছিলেন যে তিনি ইসরায়েলকে কোনো ঢালাও ছাড় দিচ্ছেন না, কিন্তু বাস্তবে তার প্রশাসন সমস্ত আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি ও মানবিক নীতি লঙ্ঘন হতে দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহ সীমান্তে যখন ১০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছিল, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের জন্য একটি তথাকথিত লাল রেখা বা রেড লাইন নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তিনি প্রচার করেছিলেন যে রাফাহ শহরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে মার্কিন বোমার পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তবে ইসরায়েলের চরমপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেই মার্কিন হুঁশিয়ারি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে যখন রাফাহতে অগ্রভিযান শুরু করেন, তখনও মার্কিন প্রশাসনের বোমার চালান অব্যাহত ছিল। এই দ্বিমুখী নীতি মার্কিন ভোটারদের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে প্রগতিশীল তরুণ সমাজ এবং মুসলিম আমেরিকানদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দেয়। যা কম স্পষ্ট তা হলো এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ কীভাবে সরাসরি ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পথকে মসৃণ করেছিল।

বইটির অনুসন্ধানী তথ্য অনুযায়ী, জো বাইডেনের ঘনিষ্ঠ নীতিনির্ধারক উপদেষ্টারা মূলত বিগত দশকের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের পুরনো মানসিকতা দ্বারা চালিত ছিলেন। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা গণবিক্ষোভকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করেছিলেন। এর ফলে গাজা এবং পার্শ্ববর্তী লেবাননে হাজার হাজার নিরীহ সাধারণ মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটে, যা বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার নৈতিক অবস্থান ও ভাবমূর্তিকে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির এই একগুঁয়ে অবস্থান তাদের প্রথাগত রাজনৈতিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের ফাটল ধরায়। আল জাজিরার ওই विश्लेषणাত্মক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঐতিহাসিক নৈতিক স্خলনই সাধারণ ভোটারদের ডেমোক্র্যাটদের থেকে দূরে ঠেলে দেয় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডানপন্থী শিবিরের পুনরুত্থান নিশ্চিত করে, যার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে আগামী কয়েক दशक ধরে প্রতিধ্বনিত হবে।

banner
Link copied!