রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরানে মার্কিন হামলা: হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা তেহরানের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১২, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

ইরানে মার্কিন হামলা: হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা তেহরানের

মার্কিন সামরিক বাহিনী রবিবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানি হামলার জবাবে দেশটির উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে রয়টার্স ও বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে যে তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সাইটসহ ইরানের প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনী হানা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই মার্কিন হামলা চালানো হয়। তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর এই সংঘাত এক নতুন মাত্রায় রূপ নিয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে যে একটি জাহাজ তাদের নির্ধারিত রুট অমান্য করায় সেটির ওপর নৌ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তা থামানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক সূত্রের খবর অনুযায়ী ওই হামলায় এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি নামের জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর একজন ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স জানিয়েছে যে জাহাজের অন্য ক্রু সদস্যরা জীবন রক্ষাকারী নৌকার সাহায্যে সেটি ত্যাগ করতে বাধ্যছেন। এই ঘটনার পর আইআরজিসি সতর্ক করেছে যে জলপথ বন্ধের পর মার্কিন যেকোনো আগ্রাসনের তীব্র জবাব দেওয়া হবে।

মার্কিন বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে যে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিতে তাদের হামলায় ঘাঁটির কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইনও তাদের ভূখণ্ডে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর নিশ্চিত করে তা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। হোয়াইট হাউজ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে এই হামলার মাধ্যমে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন যে একতরফা চুক্তির যুগ এখন শেষ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য দিতে হবে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে নিরাপদ নৌচলাচলের প্রক্রিয়া নিয়ে বৈঠক করেছেন। এই তীব্র সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন। ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেই দেশবাসীকে প্রতিশোধের আহ্বান জানান।

বর্তমানে ওমান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। যা কম স্পষ্ট তা হলো এই চরম উত্তেজনার মুখে কূটনৈতিক আলোচনা কতটুকু সফল হবে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে। বৈশ্বিক তেলের বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়ার কারণে এই অবরুদ্ধ অবস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকটের জন্ম দিতে পারে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালীটি বন্ধ থাকবে।

banner
Link copied!