ন্যাটোর আদলে গঠিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সিরিয়া যুক্ত হবে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাহরাইনে অনুষ্ঠিত মানামা ডায়ালগ সম্মেলনে গত শনিবার এই ঘোষণা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি।
এর আগে গত আগস্ট মাসে মক্কায় ওই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই জোটের যেকোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
নিরাপত্তা এই জোটে সিরিয়ার সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি। মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের আমলে এই পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, দামেস্কের বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থক হলো সৌদি আরব। আঞ্চলিক এই কূটনৈতিক সমীকরণে সৌদি আরবের ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের পক্ষ থেকে তীব্র সামরিক চাপের মুখে রয়েছে রিয়াদ। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমর্থন চেয়ে আসছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
চলতি মাসের শুরুর দিকে হুথিদের তীব্র আক্রমণের কারণে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টানা দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল দেশটি।
অন্যদিকে পাকিস্তান বা তুরস্ক—এর কেউই ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনীর পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো হামলার শিকার হওয়ার খবর জানায়নি।
সৌদির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এরই মধ্যে এগিয়ে এসেছে পশ্চিমা দেশগুলোও। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ চলতি মাসের শুরুতে পূর্বঘোষণা ছাড়াই রিয়াদ সফর করেন।
সৌদি তেলের টার্মিনালকে হুথিদের আকাশ হামলা থেকে রক্ষা করতে ফরাসি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিরাপত্তা জোরদার করতে পিছিয়ে নেই যুক্তরাজ্যও। আকাশপথে আসা আক্রমণ প্রতিহত করতে গত অক্টোবর মাসে সৌদি আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
