সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের সাথে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করার প্রস্তুতি নিয়েছে তুরস্কের সংসদ। এই চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী দেশটি ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথিদের হামলার মুখে থাকা রিয়াদকে রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছে।
চুক্তিটি অনুমোদিত হলে আঙ্কারার ওপর সৌদি আরবের প্রতি আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। তবে এর মানে এই নয় যে সাথে সাথেই দেশটিতে তুর্কি সেনা পাঠানো হবে। সামরিক কর্মী মোতায়েন করতে হলে সংসদের আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
গত মাসে মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট বা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য সংসদে জমা দেওয়া হয়। গত আগস্ট মাসে তিন দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।
এই চুক্তির মূল ধারাটি ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর অনুরূপ। এই বিধান অনুযায়ী কোনো এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
চুক্তির আওতায় তিন পক্ষ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা এবং সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিরা হামলা শুরু করার আগেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। রিয়াদের ওপর হুথিদের হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এবং তেহরান ও ওয়াশিংটন যুদ্ধ অবসানের কোনো চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি মর্মে রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার এমন মন্তব্যের পরেই বুধবার এই ভোটাভুটি হচ্ছে।
গত মাসে কর্মকর্তারা জানান যে সৌদি আরবে তুরস্কের অবদান মূলত সামরিক সরঞ্জাম, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অস্ত্র ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের একজন সংসদ সদস্য আগেই জানিয়েছিলেন যে এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে সামরিক কর্মী মোতায়েনের অনুমতি দিয়ে সংসদ আরেকটি প্রস্তাব জমা দেবে। কর্মকর্তারা জানান রিয়াদের অনুরোধ এবং যৌথ আলোচনার মাধ্যমেই দেশটির জন্য সহযোগিতার পরিধি নির্ধারিত হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী তুরস্ক কারিগরি সহায়তা ও যুদ্ধকালীন দক্ষতার মাধ্যমে সৌদি আরবকে সহযোগিতা করতে পারে। এই সহায়তার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধাস্ত্রের প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আঙ্কারা থেকে পাঠানো সরঞ্জাম স্থাপন ও পরিচালনায় সহায়তার জন্য তুর্কি সেনা, উপদেষ্টা ও সামরিক কর্মীদের মোতায়েন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মোতায়েন নির্ভর করছে সংসদে প্রস্তাব পাস হওয়ার ওপর।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আর্দা মেভলুতোগ্লু রয়টার্সকে জানান যে মক্কা জোটটি সেবা হিসেবে প্রতিরক্ষা দেওয়ার একটি প্রাথমিক উদাহরণ হতে পারে। এই মডেলে সরবরাহকারী দেশ রাজনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি সরঞ্জাম, প্ল্যাটফর্ম, কৌশল, সেবা, প্রশিক্ষণ এবং রসদ একসঙ্গে সরবরাহ করে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলার জানিয়েছেন যে হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের যুদ্ধ বা আক্রমণাত্মক অভিযানে তুর্কি সেনারা অংশ নেবে এমন কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
আংকারা সোশ্যাল সায়েন্স ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বারিন কায়াওগ্লু রয়টার্সকে জানান যে এই চুক্তি মিত্র দেশগুলোর মধ্যে একধরনের সামরিক সমন্বয় তৈরি করবে। কারণ তারা একই ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিনিময় করে থাকে।
