রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ইসরায়েলি রাজনীতি

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে হটাতে ইহুদি-আরব জোট গঠনের আহ্বান হাজারো মানুষের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৯:০০ এএম

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে হটাতে ইহুদি-আরব জোট গঠনের আহ্বান হাজারো মানুষের

গত শনিবার তেল আবিবের হাবিমা চত্বরে হাজারো বিক্ষোভকারী সমবেত হন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে হটাতে ইসরায়েলি বিরোধীদলগুলোকে আরব দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা।

সপ্তাহান্তের এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা সাংবাদিকদের জানান, প্রকৃত রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য এই মুহূর্তটিই শেষ সুযোগ হতে পারে। তাঁরা ইসরায়েলের দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে একজন চতুর কৌশলপ্রণেতা হিসেবে অভিহিত করেন।

গত মঙ্গলবারের সাধারণ নির্বাচন কোনো স্পষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহু ও তাঁর রাজনৈতিক মিত্ররা ৫৩টি আসন লাভ করেন। অন্যদিকে গাডি আইসেনকটের নেতৃত্বে মূল বিরোধী দলগুলো লাভ করে ৪৮টি আসন। এককভাবে সরকার গঠনের জন্য কোনো পক্ষই পর্যাপ্ত আসন পায়নি।

নির্বাচনে ইসরায়েলের তিনটি আরব নেতৃত্বাধীন দল ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে এবং সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন লাভ করে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের উপাত্ত অনুযায়ী, প্রায় ৮ লক্ষ ৪০ হাজার নাগরিক রাম ও যৌথ তালিকার পক্ষে ভোট দেন। গত ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত আগের সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় এই সংখ্যা ৬৪ শতাংশ বেশি।

আইসেনকট এর আগে আরব দলগুলোকে নিয়ে ক্ষমতাসীন জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, এই দলগুলোর সঙ্গে জোট হলে তাঁর পক্ষ পার্লামেন্টে ৬৭ আসনের নিরাপদ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে। দেশের অনেকের কাছেই আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতা একটি বিতর্কিত বিষয়।

শনিবারের এই বিক্ষোভের কাছাকাছি এলাকায় পাল্টা বিক্ষোভকারীরাও জড়ো হন। প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকেরা এমন কোনো সরকার না গঠনের স্লোগান দেন, যার মধ্যে তাঁদের ভাষায় সন্ত্রাসীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ডানপন্থী রাজনৈতিক মহল ফিলিস্তিনি ইসরায়েলিদের উচ্চ ভোটার উপস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছে। সমালোচকরা এই নির্বাচনী অংশগ্রহণকে গত ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেদিন হামাস নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটায় এবং শত শত মানুষকে জিম্মি করে।

ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ভোট ও মতামত বর্তমানে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখে পড়েছে। কারণ আইসেনকট সফলভাবে কোনো শাসক প্রশাসন গঠন করতে পারবেন কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তারা এখন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলো ব্যালট কারচুপি করেছে এবং নির্বাচনী সাফল্য অর্জনের জন্য কাতার থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে।

কাতার সরকার এই সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দোহা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর করা এসব দাবি একটি সুপরিকল্পিত অপতথ্য প্রচারণার অংশ মাত্র।

banner
Link copied!