রামাল্লার পূর্বে আল-মুঘাইয়ির গ্রামের একটি স্কুলের দিকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গ্রাম পরিষদের প্রধান আমিন আবু আলিয়া সাংবাদিকদের কাছে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পরে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসাকর্মীরা আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা শ্রেণিকক্ষগুলো থেকে গ্যাসের ধোঁয়া সরাতে কাজ করেন। আমিন আবু আলিয়া জানান যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্রামটি ইসরায়েলি বাহিনী ও দখলদারদের বারবার হামলার শিকার হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, উত্তর সালফিত গভর্নরেটে ফিলিস্তিনিদের যাতায়াতের বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি দখলদারেরা।
হারিস ও কিফল হারিস শহরের কাছের একটি রাস্তা এবং সালফিত ও কালকিলিয়ার সংযোগকারী ওয়াদি কানার রাস্তা এই অবরোধের আওতায় পড়ে। এ ছাড়া দখলদারেরা একটি মূল সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে দেয়।
ওয়াদি আল-শাের এলাকায় আল-জায়তুনা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির দিকে যাওয়ার একটি পথ পাথর দিয়ে আটকে দেয় দখলদারেরা, যার ফলে স্থানীয় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমসহ সমগ্র পশ্চিম তীর জুড়ে ১৫৬টি অবৈধ বসতি এবং প্রায় ৩৬০টি আউটেস্টে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ইসরায়েলি দখলদার বসবাস করে।
গত জুন মাসে জাতিসংঘের ১৪ জন বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার সতর্ক করে বলেছিলেন যে রাষ্ট্রীয় সমর্থন ও মদদে ইসরায়েলি দখলদারদের সহিংসতা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পৃথক বেশ কয়েকটি অভিযানে নাবলুস, রামাল্তা ও হেব্রোনে অভিযান চালিয়ে ছয় ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
নাবলুসের তেল শহর থেকে একজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নাবলুস শহরে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাংবাদিক সামের খুওয়াইরাকে পুনরায় আটক করা হয়।
সাংবাদিক সামের খুওয়াইরাকে এর আগে গত ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল আটক করা হয়েছিল এবং প্রশাসনিক আটকাধীন রাখার পর ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় নয় মাস কাটিয়ে ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি মুক্তি পান।
রামাল্লায় কোবার গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে সেনারা এবং আল-আমারি শরণার্থী শিবির থেকে আরও এক ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়।
হেব্রোলের দক্ষিণে দুরা এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযানের পর আরেকটি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।
ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীর জুড়ে সামরিক অভিযান ও দখলদারদের হামলা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সময়ে পশ্চিম তীরে এক হাজার দুশর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৩ হাজার ৩৫০ জন আহত হয়েছেন, পাশাপাশি ২৬ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন।
