ইরানের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তেহরানের সাথে একটি সমঝোতা হওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে দুই পক্ষ। আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, উভয় পক্ষকে সময় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।আলোচনা এখন গঠনমূলক পর্যায়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে। সেই সঙ্গে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার পরিকল্পনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে ট্রাম্প নিজে জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করার চেয়ে বিষয়টি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা বেশি জরুরি।
তবে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক রিপাবলিকান নেতা এই চুক্তির সমালোচনা করে বলছেন, তেহরানের প্রতি এটি অতিরিক্ত নমনীয়তা প্রদর্শন। সেনেটর টেড ক্রুজ একে বিপর্যয়কর ভুল বলে অভিহিত করেছেন। বিপরীতে প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য মাইক লার মনে করেন, প্রশাসন ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখন সতর্ক।
উল্লেখ্য যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের পর ইরান পালটা আক্রমণ শুরু করে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বর্তমানে মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে অবরোধ বজায় রেখেছে, তা চুক্তি সম্পন্ন ও স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন।
তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। কিছু রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ইরান উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা এখনো বাকি।চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত।
ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুদ্ধের শুরুতে প্রায় ৪৪০ কেজি ছিল। এটি পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এমন উদ্বেগের কারণেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন এই চুক্তির দিকে। দুই পক্ষই বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর।
