শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিশাল জয়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৯, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিশাল জয়

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের মেকারফিল্ড সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এক বিশাল জয় লাভ করেছেন যা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই আসনে মোট ২৪,৯২৭টি ভোট পেয়েছেন। এই ভোটসংখ্যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অভিবাসন বিরোধী কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের রবার্ট কেনিয়নের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে ৯,২৩১টি বেশি। এই বিশাল বিজয়ের পর বার্নহ্যাম তার বিজয়ী ভাষণে একে দেশের সামগ্রিক রাজনীতির জন্য একটি বড় পরিবর্তনের মোড় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন যে এই ফলাফল কেবল একটি আসনের জয় নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ওয়েস্টমিনস্টারের অবহেলার শিকার হওয়া উত্তর অঞ্চলের মানুষের এক শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ।

লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। বিগত ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলীয়ভাবে বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন ও জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণে ৬২ বছর বয়সী স্টারমার তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপেও তার জনপ্রিয়তা সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে জানা গেছে। লেবার পার্টির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য যদি দলের বর্তমান নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ জানাতে চান, তবে তাকে অন্তত ২০ শতাংশ সংসদ সদস্য অর্থাৎ ৮১ জন আইনপ্রণেতার লিখিত সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও স্থানীয় দলীয় শাখাগুলো ইতিমধ্যে এই প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদ সদস্যদের সাথে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন।

স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে এবং তারা মনে করছেন যে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্টারমারের চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারবেন। কারখানায় কর্মরত এক স্থানীয় শ্রমিক এবং ট্রেড ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ক্যামেরন গ্রাহাম জানান যে তিনি পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলের নীতিকে সমর্থন করে ভোট দিলেও বর্তমান নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা নেই। অবসরপ্রাপ্ত বিক্রয় ব্যবস্থাপক হাওয়ার্ড বন্ড উগ্র ডানপন্থী দলগুলোর অভিবাসন বিরোধী প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে বার্নহ্যাম একজন অত্যন্ত বাগ্মী নেতা এবং তিনি এই অঞ্চলের মানুষের প্রকৃত কল্যাণ চান। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মেকারফিল্ড এলাকায় বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে যা এই উপনির্বাচনের বৈশ্বিক গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো স্টারমার এই আকস্মিক ও শক্তিশালী চ্যালেঞ্জের মুখে নিজের পদ আঁকড়ে ধরে রাখবেন নাকি দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং আসন্ন ভাঙন এড়াতে নিজে থেকেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে তিনি যেকোনো ধরনের নেতৃত্ব প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত আছেন এবং মাঠ ছেড়ে চলে যাবেন না। দলের ভেতর থেকে হেলথ সেক্রেটারি ওয়েস স্ট্রিটিংসহ অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দলকে টিকিয়ে রাখতে হলে নীতিগত পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে লেবার পার্টির ভেতরে এক ধরনের চরম নেতৃত্ব যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই উপনির্বাচনে মোট ভোট প্রদানের হার ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ যা পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় সাত শতাংশ বেশি এবং এটি জনগণের তীব্র রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় দেয়। ইলন মাস্কের অর্থায়নে পরিচালিত রিস্টোর ব্রিটেন এবং নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে এই আসনে বিপুল পরিমাণ বহিরাগত কর্মী এনে প্রচারণা চালালেও স্থানীয় সচেতন ভোটাররা তাদের চরমপন্থী নীতিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে মেকারফিল্ডের এই ঐতিহাসিক ফলাফল কেবল লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করবে না, বরং সামগ্রিকভাবে যুক্তরাজ্যের আগামী দশকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি নির্ধারণে এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

banner
Link copied!