শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইউএস-ইরান চুক্তি ব্যাহত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৯, ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইউএস-ইরান চুক্তি ব্যাহত

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্ত থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল শুক্রবার লেবাননে তাদের বিমান হামলা ও স্থল আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে বলে আল জাজিরা এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে লেবাননের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে এবং সেই অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার নির্ধারিত মার্কিন-ইরান কারিগরি পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। গত রাতে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের বন্দর নগরী টায়ারসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ডজন সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার পর এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয় যা ওয়াশিন্টনের মধ্যস্থতায় চলা শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছ থেকে মার্কিন আলোচনার বিষয়ে প্রতিরোধ ফ্রন্টের অধিকার রক্ষার বিষয়ে পূর্ণ আশ্বাস পেয়েছেন। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে লেবাননে হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না এবং কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নেবে না। কোয়েন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের executive ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি আল জাজিরাকে বলেন যে লেবাননের নিরাপত্তা ইরানের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় এবং তেহরান এই শর্তে কোনো আপস করবে না। তাদের মতে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের একতরফা আগ্রাসন এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির জন্য সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যা পুরো অঞ্চলের শান্তি নস্যাৎ করতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসরায়েলের এই একগুঁয়ে আচরণে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যা তার সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট আকারে ধরা পড়ে। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক বার্তায় লিখেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সব পক্ষকে আলোচনা সুচারুভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি বিশ্ব বাজারে শেয়ার বাজারের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসের কথা উল্লেখ করে লেবানন, হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির দাবি জানান। হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে তেল আবিবের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তা পুরোপুরি আমলে নিচ্ছেন না।

যা কম স্পষ্ট তা হলো মার্কিন প্রশাসনের এই খোলাখুলি অসন্তোষের মুখে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার সামরিক অভিযান শেষ পর্যন্ত বন্ধ করবেন নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকারী নীতিকে উপেক্ষা করে লেবানন দখল দীর্ঘস্থায়ী করবেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি তবে তারা লেবাননের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস করার অজুহাতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন পুরোপুরি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি intervention কামনা করেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে কীভাবে এই নতুন সামরিক উত্তেজনা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামগ্রিক আলোচনাকে প্রভাবিত করে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন ভূরাজনৈতিক সংকট বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে যে একটি দ্রুত যুদ্ধবিরতি চুক্তি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি এবং এর কোনো বিকল্প নেই। লেবাননের সাধারণ মানুষ এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন এবং হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। উম্মাহ কণ্ঠের পক্ষ থেকে এই বৈশ্বিক political সংকটের প্রতিটি কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে যাতে করে পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া যায়।

banner
Link copied!