ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি শুক্রবার ওয়াশিংটনে তার পূর্বনির্ধারিত সরকারি সফর বাতিল করেছেন বলে দেশটির প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে একটি আকস্মিক কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হওয়ার পর এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-সাত শীর্ষ সম্মেলনে মেলোনি ছবি তোলার জন্য ট্রাম্পের কাছে মিনতি করেছিলেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক অদ্ভুত দাবির পর এই ডোনাল্ড ট্রাম্প মেলোনি বিতর্ক চরম আকার ধারণ করে। ইতালীয় টেলিভিশন চ্যানেল লা-সেভেনে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন যা রোমের political মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের এই দাবিকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে তিনি নিজে বা ইতালি রাষ্ট্র কখনো কোনো অবস্থাতেই কারো কাছে কোনো কিছুর জন্য মিনতি করে না। মেলোনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে তিনি বুঝতে পারছেন না কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সাথে এমন অশোভন আচরণ করছে। এই ডোনাল্ড ট্রাম্প মেলোনি বিতর্ক দুই দেশের দীর্ঘদিনের উষ্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে যা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে পশ্চিমা দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ফাটলকে স্পষ্ট করে তোলে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অত্যন্ত মারাত্মক এবং আপত্তিকর বলে বর্ণনা করেছেন যা সমগ্র ইতালির জনগণকে গভীরভাবে অপমান করেছে। এই কারণে তিনি আগামী ২১ ও ২২ জুনের নির্ধারিত মার্কিন সফর সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যেখানে তার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক বৈঠকে বসার কথা ছিল। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তোও ট্রাম্পের এই হাস্যকর দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে কোনো চরম হুমকির মুখেও মেলোনি কখনো ছবি তোলার জন্য কারো কাছে মিনতি করতে পারেন না। ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনের ডান ও বামপন্থী সকল দলই এই ঘটনার পর মেলোনির প্রতি তাদের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে যা রোমের জাতীয় ঐক্যকে বিশ্বমঞ্চে প্রদর্শন করে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত গ্রুপ অব সেভেন বা জি-সাত শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই নেতার সোফায় বসে দীর্ঘক্ষণ বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে কথা বলার দৃশ্য ভিডিওতে ধরা পড়েছিল। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করার কারণে ট্রাম্প ও মেলোনির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক ধরনের বড় শীতলতা তৈরি হয়েছিল। শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর মেলোনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং তারা অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। যা কম স্পষ্ট তা হলো মার্কিন প্রশাসনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অবমাননাকর মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত বাণিজ্য চুক্তি এবং ন্যাটো জোটের যৌথ সামরিক সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ট্রাম্পের এই অহংকারী বক্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য অংশীদারদের কাছেও একটি অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা পাঠাবে যা জোটের ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে। মেলোনি তার বিবৃতিতে আরও যোগ করেছেন যে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পশ্চিমাদের প্রকৃত শত্রুদের বিরুদ্ধে এমন দৃঢ়তা দেখান না যাদের সাথে তিনি বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনেক বেশি উদার ও আপসকারী আচরণ করেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা দুঃখ প্রকাশ করা হয়নি যা রোমের সরকারি কর্মকর্তাদের অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উম্মাহ কণ্ঠের সম্পাদকীয় পর্ষদ এই বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকটের প্রতিটি কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে যাতে করে পাঠকদের কাছে সম্পূর্ণ সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া যায়।
