যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তনের দৌড়ে মেকারফিল্ডের নতুন সংসদ সদস্য অ্যান্ডি বার্নহাম সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মঙ্গলবার বিবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বর্তমানে অন্য সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিটের শীর্ষ পদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে এখন ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, আগামী নয় জুলাই থেকে লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং এই প্রক্রিয়া আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহামের বিরুদ্ধে যদি অন্য কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন, তবে তিনি আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। তবে দলের অভ্যন্তরে অন্যান্য কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও এই শীর্ষ পদের জন্য নিজেদের প্রার্থীতার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন, যা পরিস্থিতিকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে।
লেবার পার্টির বর্তমান ক্যাবিনেট মন্ত্রী ড্যারেন জোন্স এবং কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা আল কার্নস এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের ক্যাবিনেটে অ্যান্ডি বার্নহামের সাথে কাজ করা প্রবীণ নেতা লর্ড ফিলিপ হান্ট বিবিসি রেডিও উলস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি অ্যান্ডি বার্নহামকে একজন চমৎকার সহকর্মী এবং অত্যন্ত দক্ষ যোগাযোগকারী হিসেবে বর্ণনা করেন। লর্ড হান্ট মনে করেন যে অ্যান্ডি বার্নহামের পুরো দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রয়েছে, তবে প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি শীর্ষ পদে বসার ক্ষেত্রে অনেক বড় চাপ সহ্য করতে হয়।
লর্ড হান্ট সাক্ষাৎকারে আরও উল্লেখ করেছেন যে ড্যারেন জোন্স এবং আল কার্নস দুজনেই অত্যন্ত যোগ্য প্রার্থী এবং কার্নসকে তিনি একজন ব্যতিক্রমী নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন। পুরো লেবার পার্টি অ্যান্ডি বার্নহামের সাফল্য কামনা করলেও নতুন নেতাকে ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে এক অত্যন্ত কঠিন挑戰ের মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। দলের সংসদ সদস্যদের একাংশ মনে করছেন যে এই মুহূর্তে সরকারের ধারাবাহিকতা ও ঐক্য বজায় রাখতে একটি উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া জরুরি, যাতে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যিনিই আসুন তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
যা কম স্পষ্ট তা হলো এই অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতার কারণে যুক্তরাজ্যের বর্তমান পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় কোনো বড় পরিবর্তন আসবে কি না। লেবার পার্টির এই আকস্মিক নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং স্টারমারের বিদায় বিশ্ব রাজনীতিতেও এক নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। political বিশ্লেষকদের মতে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, যা দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
