ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার কঠোর জবাব দিয়েছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। এই পাল্টা আঘাতের ফলে দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতা হারানো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। এছাড়া জর্ডানের আজরাক সামরিক ঘাঁটিতেও ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সরাসরি এই হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অঞ্চলটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বুশেহরে অবস্থিত একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পারমাণবিক কেন্দ্রের সীমানায় আঘাত হেনেছে। তবে ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পারমাণবিক চুল্লি এবং মূল অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে এবং কেন্দ্রটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বুশেহরের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম যখন ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা পরই এই হামলাটি চালানো হয়। ফার্স নিউজের তথ্যমতে, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের চোগাদাক এলাকার বাসিন্দারাও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ওই এলাকাতে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি এবং একটি মাছ ধরার জেটিতেও মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এই পাল্টা হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, বুধবার রাতে তারা দ্বিতীয় দফায় ইরানে ৯০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, সেই হামলাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনঘাঁটি এবং উপকূলীয় সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা।
পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ আনছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অশনি সংকেত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কোনো কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, বরং সামরিক শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। অঞ্চলটির সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
