বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

২০২৭ নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা ল্য পেনের: আদালতের রায়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৯, ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

২০২৭ নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা ল্য পেনের: আদালতের রায়

ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল তছরুপের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও ফ্রান্সের সুপরিচিত কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মারিন ল্য পেন ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। প্যারিসের একটি আপিল আদালত ল্য পেনের নির্বাচনের অযোগ্যতার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ায় তিনি আবারও নির্বাচনী দৌড়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন। গত মার্চ মাসে এক রায়ে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু নতুন রায়ে সেই মেয়াদ ৪৫ মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে ৩০ মাস স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে তিনি আইনত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

আদালতের এই নতুন রায়ে ল্য পেনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুই বছর স্থগিত এবং এক বছর ইলেকট্রনিক ট্যাগ বা জিএসপি পরিহিত অবস্থায় গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ রয়েছে। এই ইলেকট্রনিক ট্যাগ বা অ্যানকল ব্রেসলেট পরিধানের বিষয়টি তার নির্বাচনী প্রচারণার জন্য বড় বাধা হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে ল্য পেন আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। আইনজীবীদের মতে, সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার ফলে তার সাজা এবং ইলেকট্রনিক ট্যাগ পরার নির্দেশ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

রায়ের পরপরই ল্য পেন একটি ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ২০২৭ সালের নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্তে তিনি অটল। গত কয়েক মাস ধরে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, এই রায়ের মাধ্যমে তা আপাতত কাটল। তার দলের প্রবীণ নেতারাও তার এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ল্য পেনের এই নির্বাচনী লড়াইয়ের ঘোষণা তার দলের অভ্যন্তরে থাকা ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলেছে। তার উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত জর্ডান বারদেলা এতদিন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেছিলেন ল্য পেন যদি নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হন, তবে বারদেলা দলের নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু ল্য পেন নিজে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় দলের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের আপাতত অবসান ঘটেছে।

ফ্রান্সের রাজনীতিতে দুর্নীতির অভিযোগে কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং আদালতের এই ধরনের রায় বিরল কোনো ঘটনা নয়। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা মনে করছেন, তহবিল তছরুপের দায়ে অভিযুক্ত হয়েও সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদের জন্য লড়াই করা নৈতিকতার প্রশ্নে বড় বিতর্ক সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, তার সমর্থকরা মনে করছেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার ব্যবস্থা।

নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে এই ইলেকট্রনিক ট্যাগ পরিধানের শর্তটি বড় ধরনের আইনি ও ব্যবহারিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। যদি সর্বোচ্চ আদালত তার সাজা বহাল রাখে, তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। তবে নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সাংবিধানিক সুরক্ষাও পেতে পারেন। পুরো বিষয়টি এখন ফ্রান্সের বিচার ব্যবস্থা এবং পরবর্তী নির্বাচনের জনমতের ওপর নির্ভরশীল।

banner
Link copied!