ভারতের মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক শহর ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং নির্বিচার দমন-পীড়নের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তরুণদের নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি এই জোরালো দাবি উত্থাপন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে উপস্থিত থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন এবং এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে গত মাসের বিশ তারিখে রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংসদ অভিমুখে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যেভাবে চড়াও হয়েছে এবং নির্বিচারে রক্ত ঝরিয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের প্রত্যক্ষ সবুজ সংকেত ছাড়া এই ধরনের বলপ্রয়োগ সম্ভব ছিল না বলে সিজেপি দাবি করে। ভারতের লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর উত্থাপিত পদত্যাগের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করে সিজেপি নেতারা জানান যে এই প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর বর্তায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং ছররা গুলি ব্যবহার করেছে, যার ফলে বহু তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং কেউ কেউ চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
এর আগে দিল্লির রাজপথে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রদানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পালটা অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল যে এই শিক্ষার্থী আন্দোলনের পেছনে বিদেশি তহবিল বা বাইরের কোনো শক্তির হাত রয়েছে। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে নাকচ করে বলা হয়েছে যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্বে থেকে যদি সত্যিই এমন কোনো তহবিল প্রবেশ করে থাকে, তবে তা আরও বড় ধরনের গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ। সেক্ষেত্রেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে টিকে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না বলে নেতারা মন্তব্য করেন।
চলমান এই তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে। ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের এই নতুন আন্দোলন ভারতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থী, যুবসমাজ ও ক্ষুব্ধ কৃষক সম্প্রদায়কে একত্রিত করে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এই প্রতিবাদী সংগঠনটি। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও নৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
