কসোভোর নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশটির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ইউস্তিনা শিরোকা পুলা। সাংবিধানিক সময়সীমা শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে তিনি প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করেন। ক্ষমতাসীন ভেতেভেন্দোসিয়ে আন্দোলন এবং প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব কসোভোর রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে দেশটিতে নতুন আগাম নির্বাচনের আশঙ্কা দূর হলো।
পার্লামেন্টে তিনি মোট ৮১টি ভোট পেয়েছেন।
১২০ আসনের আইনসভায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৮০টি ভোটের চেয়ে একটি বেশি পান তিনি। সাবেক কসোভো লিবারেশন আর্মির নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার প্রতিবাদে প্রিস্টিনার রাজপথে সহিংস বিক্ষোভ চলছিল। এর মধ্যেই হেগভিত্তিক বিশেষ আদালতের আইনি কাঠামোতে সংশোধনী আনার শর্তে বিরোধী দল ভোটাভুটিতে অংশ নিতে সম্মত হয়।
৭৩ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদ দেশটির তৃতীয় নারী প্রেসিডেন্ট।
আতিফেতে ইয়াহইয়াগা ও ভিজোসা ওসমানীর পর দেশের শীর্ষ পদে বসা পুলা দীর্ঘ সময় শিক্ষা ও নীতি গবেষণায় সক্রিয় ছিলেন। প্রিস্টিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং জাগরেব থেকে স্নাতকোত্তর শেষে তিনি কসোভোর অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ওপর পিএইচডি অর্জন করেন। কর্মজীবনে ন্যাশনাল ব্যাংক অব কসোভোয় কাজ করার পর তিনি প্রিস্টিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় ফেরেন এবং গত ডিসেম্বরে কসোভো একাডেমি অব সায়েন্সেস অ্যান্ড আর্টসের প্রথম নারী প্রধান নির্বাচিত হন।
শুধু একাডেমিয়াতেই নয়, প্রত্যক্ষ রাজনীতিতেও তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও বিরোধী পক্ষের সমর্থন নিয়ে দায়িত্ব শুরু করলেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে পররাষ্ট্র ও প্রশাসনিক বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করাই হবে তার মূল চ্যালেঞ্জ।
