রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কুরাসাওয়ের বিশ্বমঞ্চ: দ্বীপরাষ্ট্রের ফুটবল স্বপ্নযাত্রা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৭, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

কুরাসাওয়ের বিশ্বমঞ্চ: দ্বীপরাষ্ট্রের ফুটবল স্বপ্নযাত্রা

ক্যারিবীয় সাগরের ছোট্ট দ্বীপ কুরাসাও। আয়তন, জনসংখ্যা কিংবা অবকাঠামোর বিচারে বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিদের সঙ্গে তুলনা করলে দেশটি অনেকটাই ক্ষুদ্র। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছে কুরাসাও। সীমিত সম্পদ এবং ছোট জনসংখ্যা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের গণ্ডি পেরিয়ে তারা এখন বিশ্বমঞ্চের মূল পর্বে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাই কুরাসাও এখন শুধুই একটি দ্বীপ নয়, বরং বড় স্বপ্ন দেখার প্রতীক।

কুরাসাওয়ের ফুটবল ইতিহাসের অনেকটা জুড়ে আছে নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস যুগ। ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস ভেঙে যাওয়ার পর দেশটি পৃথক ফুটবল পরিচয় লাভ করে। এরপর থেকেই নতুনভাবে দল গঠনের কাজ শুরু করে তাদের ফেডারেশন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে শুরুটা সহজ ছিল না। র‌্যাঙ্কিংয়ের নিচের দিকে অবস্থান এবং অভিজ্ঞতার অভাব ছিল বড় বাধা। তবে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে ইউরোপে বেড়ে ওঠা কুরাসাও বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার কৌশল দলটির মান বাড়িয়ে দেয়।

দেশটির জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি। ফলে খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্র স্বাভাবিকভাবেই সীমিত। আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কিংবা বিশাল একাডেমি নেটওয়ার্কের ঘাটতি থাকলেও কুরাসাও এই সীমাবদ্ধতাকে দুর্বলতা হতে দেয়নি। ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিজ্ঞতা এবং ক্যারিবীয় ফুটবলের স্বতঃস্ফূর্ততা মিলিয়ে দলটি ভিন্ন এক পরিচয় তৈরি করেছে। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি শারীরিক সক্ষমতা এবং দ্রুতগতির আক্রমণ। কাউন্টার অ্যাটাকভিত্তিক ফুটবলে তারা বেশ দক্ষ।

দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। কয়েক দশকের কোচিং অভিজ্ঞতা থাকা এই ডাচ কোচ নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো দলের দায়িত্ব সামলেছেন। কুরাসাওয়ের মতো ছোট একটি দলকে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলা তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অ্যাডভোকাটের কৌশলের মূল ভিত্তি হলো শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণ।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কুরাসাওর সাফল্যের অনেকটা নির্ভর করবে অভিজ্ঞ কিছু ফুটবলারের ওপর। তাদের মধ্যে অন্যতম লিয়ান্দ্রো বাকুনা এবং জুনিনহো বাকুনা। লিয়ান্দ্রো দলের অধিনায়ক এবং মাঝমাঠের প্রাণভোমরা। তার সঙ্গী ছোট ভাই জুনিনহো বাকুনা। দুই ভাইয়ের বোঝাপড়া কুরাসাওর খেলার অন্যতম আকর্ষণ। আক্রমণভাগে নজর থাকবে জার্গেন লোকাডিয়ার ওপর। আর গোলপোস্টের নিচে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলোই রুম দলের নির্ভরতার প্রতীক।

তবে বিশ্বকাপ যাত্রা তাদের জন্য খুব একটা সহজ নয়। ‘গ্রুপ অফ ডেথ’-এ তাদের প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল ইকুয়েডর এবং আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল আইভরি কোস্ট। তিন প্রতিপক্ষের সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশাল হলেও কুরাসাওর স্বপ্ন আকাশচুম্বী। ডিক অ্যাডভোকাট তার শিষ্যদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছেন এই বলে যে, বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার ক্ষমতা যে কোনো দলেরই আছে।

banner
Link copied!