ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। ২০২৬ সালের আসর নিয়ে ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা ও সমীকরণ মেলানোর পালা। এই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন নিউইয়র্কের স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানি। যদিও তিনি মূলত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত, তবে ফুটবলের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ও সম্পৃক্ততা বরাবরই আলোচনায় থাকে। আসন্ন টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে তিনি তার ব্যক্তিগত পছন্দের দলের তালিকা প্রকাশ করেছেন, যা ফুটবল মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। তার দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ফুটবল বিশ্বের নতুন চ্যাম্পিয়ন হবে মরক্কো।
জোহরান মামদানির এই ভবিষ্যদ্বাণী কেবল আবেগের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তিনি প্রতিটি দলের শক্তিমত্তা ও টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, ফাইনালে ফ্রান্সকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল জয়ের পর থেকেই দলটি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী ও সাহসী দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মামদানি মনে করেন, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার তারা শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছাবে।
মামদানির বিশ্লেষণে বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নকআউট পর্বের শেষ ৩২ দলের লড়াইয়েই ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ হবে এবং শক্তিশালী জাপানের কাছে হেরে তারা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে। এছাড়া স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখবে। নকআউট পর্যায়ে কানাডা ও বেলজিয়ামের মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে হারালেও শেষ আটের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে আটকে যাবে তাদের জয়রথ।
ব্যক্তিগত জীবনে জোহরান মামদানির ফুটবলপ্রেমের উৎস বেশ গভীর। উগান্ডায় জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা শুরু হয় ছোটবেলা থেকেই। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ দেখার অভিজ্ঞতা তার ফুটবল দর্শনে বড় প্রভাব ফেলেছিল। সেই আসরে ঘানার নাটকীয় কোয়ার্টার ফাইনাল বিদায়ের বেদনা আজও তাকে তাড়া করে। এবার তার তালিকায় ঘানাকে নকআউট পর্বে দেখা গেলেও, শেষ ৩২-এ কলম্বিয়ার কাছে তাদের পরাজয়ের আশঙ্কা করছেন তিনি।
ফুটবল এমন একটি অনিশ্চয়তার খেলা যেখানে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলে। মামদানির এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো কতটা বাস্তবে রূপ নেবে তা সময়ের ব্যাপার। তবে একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে তার এই ফুটবল বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়, বরং তা মানুষের আবেগ ও মনস্তাত্ত্বিক সংযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বিশ্ববাসী এখন অপেক্ষা করছে ২০২৬ সালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য, যখন প্রতিটি মাঠের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে ফুটবলের নতুন রাজা।
