সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কানসাস সিটিতে গুলির ঘটনা, বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

কানসাস সিটিতে গুলির ঘটনা, বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে একটি ভয়াবহ গুলির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার ভোরে ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় এই গুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তিনজন নারীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরবর্তী তদন্তে আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আহত সবাইকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাটি এমন একটি এলাকায় ঘটেছে যা ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের নির্ধারিত ট্রেনিং ভেন্যু সোয়োপ সকার ভিলেজের খুব কাছে অবস্থিত।

বিশ্বকাপের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, নেদারল্যান্ডস এবং আলজেরিয়া কানসাস সিটিকে তাদের বেস ক্যাম্প হিসেবে নির্বাচন করেছে। ফলে এই এলাকায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার পরপরই কানসাস সিটি পুলিশ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। হামলাকারী বা গুলির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন কানসাস সিটি পুলিশ বিভাগ বিশ্বকাপ চলাকালীন নিরাপত্তার জন্য ১৭ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল অনুদান পেয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজালেও, সাম্প্রতিক এই সহিংসতার ঘটনা তাদের প্রস্তুতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বিশ্বকাপ চলাকালে এই শহরে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার দর্শকের আগমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন প্রশাসনের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইংল্যান্ড বর্তমানে ফ্লোরিডায় তাদের প্রস্তুতিপর্ব চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়লাভের মাধ্যমে তারা নিজেদের ফর্মের জানান দিয়েছে। আগামী বুধবার কোস্টা রিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে ১৩ জুন ইংল্যান্ড দল কানসাস সিটিতে পৌঁছাবে বলে কথা রয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলগুলোও একই সময়ে সেখানে অবস্থান করবে।

নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সব জাতীয় দলের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। তবে কানসাস সিটির এই গুলির ঘটনা আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নিরাপত্তার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন প্রতিটি দলের জন্য কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সব শঙ্কা দূর করতে হবে।

banner
Link copied!