সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কুরআন চুমু খেয়ে বিশ্বকাপে ইরান দল, ভিসা জটিলতা কাটিয়ে যাত্রা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

কুরআন চুমু খেয়ে বিশ্বকাপে ইরান দল, ভিসা জটিলতা কাটিয়ে যাত্রা

ছবি : সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আসরকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই মিছিলে অংশ নিতে ইরান জাতীয় ফুটবল দল এক ভিন্নধর্মী ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দর থেকে বিমানে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে ইরানি ফুটবলাররা পবিত্র কুরআন শরীফে চুমু খাচ্ছেন। দলের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের এই দৃশ্যটি দ্রুতই ফুটবল বিশ্বের দর্শকদের নজর কেড়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের সূচনা করলেন।

ইরানের এই বিশ্বকাপ যাত্রা খুব একটা সহজ ছিল না। দলের ভিসা অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংকটের কারণে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তুরস্কের আন্তালিয়ায় তাদের প্রশিক্ষণ শিবির চলাকালীন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। যদিও মূল দল ভিসা পেয়েছে, তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রতিনিধি দলের ১৫ জন সদস্যের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

ভিসা জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে ইরান দল মেক্সিকোতে পৌঁছে গেছে। এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো হওয়ায় দলগুলোকে লজিস্টিক দিক থেকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইরানের ম্যাচগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাই তাদের মেক্সিকোতে অবস্থান করতে হলেও খেলার জন্য দিনে গিয়ে দিনেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে হবে। এই যাতায়াত ব্যবস্থা দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের জন্যই গর্বের বিষয়। ইরান গত কয়েক বছরে এশীয় ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ভিসা সংক্রান্ত বিড়ম্বনা এবং যাতায়াত সমস্যার মতো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। দলের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, এসব ছোটখাটো বাধা তাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না। ইরানের সমর্থকরাও আশা করছেন, মাঠের পারফরম্যান্সে তারা সব প্রতিকূলতার জবাব দিতে সক্ষম হবে। এখন দেখার বিষয়, মেক্সিকোর মাটি থেকে প্রতিদিনের এই দীর্ঘ সফর শেষে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে কেমন নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফুটবলারদের এমন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ আচরণ এবং প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে যাওয়ার গল্পগুলো টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন ইরানের পারফরম্যান্সের দিকে।

banner
Link copied!