২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আসরকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। গত আসরের আয়োজক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কাতার এবার নিজেদের যোগ্যতায় বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২২ সালের আসরে সরাসরি খেলার সুযোগ থাকলেও এবারের অর্জনটি তাদের জন্য ভিন্ন অর্থ বহন করে। বাছাইপর্বের কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে এশীয় ফুটবলে তাদের অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। এটি কাতারের জন্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের এক নতুন সুযোগ।
কাতার জাতীয় দলের বর্তমান রূপান্তরের পেছনে কোচ জুলেন লোপেতেগির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দলকে সুশৃঙ্খল ও কৌশলগত ফুটবলের দিকে ধাবিত করেছেন। স্পেনের জাতীয় দল, রিয়াল মাদ্রিদ এবং সেভিয়ার মতো বড় ক্লাবে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই স্প্যানিশ কোচ দলের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে জোর দিয়েছেন। তার দিকনির্দেশনায় দলটি বাছাইপর্বের বাধাগুলো সফলভাবে টপকেছে, যা তাদের বিশ্বকাপ যাত্রায় বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
দলের আক্রমণের প্রধান ভরসা হিসেবে বর্তমানে আকরাম আফিফের ওপর সবার নজর রয়েছে। এশীয় ফুটবলের অন্যতম গতিশীল এই ফুটবলার ২০১৯ ও ২০২৩ সালের এশিয়ান কাপে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। মাঠের ভেতর ড্রিবলিং, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং গোল করার সুযোগ তৈরিতে তার জুড়ি মেলা ভার। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব কাতার দলকে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার সাহস দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কাতার গত এশীয় অঞ্চলের চূড়ান্ত বাছাইপর্বে নিজেদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয়টি তাদের জন্য ছিল টার্নিং পয়েন্ট। বুলায়েম খুখি ও পেদ্রো মিগুয়েলের গোল সেই ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে, যা কাতারকে প্রথমবারের মতো বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপের মূল আসরে পৌঁছে দেয়। এই জয়টি দেশটির ফুটবল ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কাতার এখনো জয়ের স্বাদ পায়নি। ২০২২ আসরে তিনটি ম্যাচেই তাদের হারতে হয়েছে। তবে সেই আসরে সেনেগালের বিপক্ষে মোহাম্মদ মুনতারির গোলটি ছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ গোল। সেই অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে এবার তারা প্রথম জয়ের সন্ধানে নামছে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দৃঢ়তা এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্যমের সমন্বয়ে কাতার দল এখন নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামছে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেওয়াটাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
