আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে স্পেন। মেক্সিকোর পুয়েবলা শহরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তারা ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে পেরুকে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা এই জয় দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের ফেভারিট হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেল। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন তাদের চিরাচরিত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে পেরুর রক্ষণভাগকে চাপের মুখে রেখেছিল।
ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণের কাজ শুরু হয় মাত্র দুই মিনিটের মাথায়। মিকেল ওয়ারজাবাল ডি-বক্সের কিনারা থেকে শক্তিশালী শটে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই দ্রুত গোলটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং স্পেনকে আত্মবিশ্বাস জোগায়। প্রথমার্ধের প্রায় ত্রিশ মিনিট পর 페দ্রি বা পেদ্রি দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। ফেরান তোরেসের নিখুঁত এক ক্রসে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে তিনি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্পেন তাদের তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেয়। ইয়েরেমি পিনোর ক্রস থেকে আসা বল আটকাতে গিয়ে পেরুর গোলরক্ষক পেড্রো গালেসি ভুল করে বসেন, যা স্পেনের লিড আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে পেরু লড়াই ছাড়েনি। শেষ দিকে জাইরো ভেলেজ একটি গোল পরিশোধ করে ব্যবধান ৩-১ করেন। এরপর অবশ্য স্পেন তাদের রক্ষণভাগ সামলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।
পুরো স্টেডিয়ামে স্প্যানিশ সমর্থকদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে প্রচুর স্পেনের জার্সি দেখা গেছে, যার মধ্যে বার্সেলোনার জার্সিও ছিল উল্লেখযোগ্য। বর্তমান স্প্যানিশ দলে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের আধিপত্য বেশি, যা সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। পেরুর সমর্থকরা সংখ্যায় কম হলেও সারা ম্যাচজুড়ে তারা তাদের দলের জন্য উচ্চকণ্ঠে সমর্থন দিয়ে গেছেন।
বিশ্বকাপের এবারের আসর শুরু হচ্ছে আগামী ১১ জুন থেকে। ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন তাদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে ১৫ জুন, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। এই প্রস্তুতি ম্যাচটি স্প্যানিশ কোচকে দলের দুর্বলতা খুঁজে বের করতে এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়তা করেছে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য স্পেন এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিশ্বকাপের দীর্ঘ যাত্রায় এই জয় তাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
