বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন তারকা: যাদের ওপর থাকবে বিশ্বজুড়ে নজর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১১, ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন তারকা: যাদের ওপর থাকবে বিশ্বজুড়ে নজর

ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরই ইতিহাসের পাতায় নতুন কিছু তারকার নাম যুক্ত করে। পেলের বিস্ময়কর উত্থান থেকে শুরু করে দিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুকরী পারফরম্যান্স, অথবা কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠার গল্প—প্রতিটি ঘটনাই ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম হবে না। এই আসরটি হবে এমন এক মঞ্চ, যেখানে বর্তমান প্রজন্মের নতুন প্রতিভারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবেন। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন সেইসব তরুণ ফুটবলারদের ওপর, যারা নিজেদের দেশের সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর হয়ে উঠতে পারেন।

আর্জেন্টিনার বর্তমান স্কোয়াডের রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় নেই, বিশেষ করে মাঝমাঠের সৃজনশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নিকো পাজকে নিয়ে অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তরুণ এই মিডফিল্ডার খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। বল পায়ে তার আত্মবিশ্বাস এবং মাঠের মাঝখান থেকে নিখুঁত পাস দেওয়ার দক্ষতা ফুটবল বিশ্লেষকদের মুগ্ধ করেছে। আক্রমণ তৈরির পাশাপাশি দূরপাল্লার শটে গোল করার ক্ষমতা তাকে এক অনন্য উচ্চতায় দাঁড় করিয়েছে। যদি তাকে ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়, তবে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে নতুন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন তিনি।

ফ্রান্সের ফুটবল কারখানা থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসা এখন একটি নিয়মিত ঘটনা। সেই ধারায় দেজিরে দুয়ে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল একটি নাম। খুব অল্প বয়সে তার গতি এবং ড্রিবলিং দক্ষতা ফুটবল বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। তিনি এমন একজন খেলোয়াড় যিনি একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। উইং থেকে ভেতরে ঢুকে রক্ষণভাগ তছনছ করা কিংবা গোল করার সুযোগ সৃষ্টি করা—দুজনের মধ্যে এই বহুমুখী প্রতিভা রয়েছে। ফ্রান্সের মতো তারকাখচিত দলে জায়গা করে নেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, কিন্তু নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

ইংল্যান্ডের নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে নিকো ও’রিলির নাম উঠে আসছে। বর্তমান ফুটবলের আধুনিক সব গুণাবলি তার মধ্যে বিদ্যমান। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ—উভয় জায়গাতেই তিনি সাবলীল। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে যদি তিনি ইংল্যান্ডের মূল স্কোয়াডে সুযোগ পান, তবে তার মতো তরুণদের আত্মপ্রকাশ করার দারুণ এক সুযোগ তৈরি হবে। আধুনিক ফুটবলের দাবি মিটিয়ে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবেন বলে বিশ্বাস রাখেন অনেকে।

ব্রাজিলের কথা বললে তরুণ প্রতিভার দীর্ঘ তালিকা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নাম এন্ড্রিক। তার গতি, শক্তিশালী শট এবং গোল করার সহজাত ক্ষমতা তাকে ভবিষ্যতের সুপারস্টার হিসেবে গড়ে তুলেছে। বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর মানসিক শক্তি তার রয়েছে, যা খুব অল্প বয়সে তিনি প্রমাণ করেছেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার মতো তারকাদের পাশাপাশি তার সমন্বয় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য দুঃস্বপ্ন হতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল যদি শিরোপার দাবিদার হিসেবে এগিয়ে যায়, তবে এন্ড্রিকের গোল করার ক্ষমতা হবে তাদের অন্যতম প্রধান শক্তি।

স্পেনের ফুটবল দর্শন এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কৌশলে পেদ্রি এক অপরিহার্য নাম। যদিও তিনি এখন আর পুরোপুরি নতুন মুখ নন, তবে তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার মিশেলে তিনি নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার ফুটবল বুদ্ধিমত্তা তাকে অন্যদের থেকে অনন্য করে তুলেছে। খেলার গতি কখন বাড়াতে হবে এবং কখন বল নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করতে হবে—এই শিল্পে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। স্পেনের আক্রমণভাগের সাফল্যের পেছনে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেন যদি ভালো ফলাফল করতে চায়, তবে পেদ্রির নিখুঁত পাসিং এবং খেলার ছন্দ বজায় রাখা হবে দলের জয়ের মূলমন্ত্র।

banner
Link copied!