আর্জেন্টিনার ফুটবল অধিনায়ক লিওনেল মেসি চলতি বিশ্বকাপে নিজের জাদুকরি পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বলে মঙ্গলবার দিনাজপুর টিভির ক্রীড়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ৩৯ বছরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই মহাতারকা বিশ্বমঞ্চে ফুটবল বিশ্বে এক অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করছেন। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে একেকজন সমর্থকের পছন্দ ভিন্ন হতে পারলেও এই ফরোয়ার্ড নিজেকে যে স্তরে উন্নীত করেছেন সেখানে এই যুগে আর কাউকে দেখা যায় না।
চলতি ফুটবল আসরে মাত্র ২ ম্যাচে ৫ গোল করার পাশাপাশি ২টি ম্যাচেই সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়ার এক অভাবনীয় কীর্তি গড়েছেন এই কিংবদন্তি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর নিখুঁত ফিনিশিং এবং প্রচণ্ড গতির গোলটি ছিল ফুটবল ভক্তদের জন্য এক দর্শনীয় মুহূর্ত। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে কেবল ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই এমন নিখুঁত গোল করা সম্ভব। আসরের প্রথম ম্যাচে তাঁর অনবদ্য হ্যাটট্রিকের পর ব্রাজিলের সাবেক মহাতারকা রোনালদো নাজারিও এবং বিশ্বের বড় বড় ফুটবল বোদ্ধারাও একবাক্যে তাঁকে সর্বকালের সেরা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
এই ফুটবলারের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু তাঁর পায়ের জাদুকরি শৈলীতেই সীমাবদ্ধ নয় বরং মাঠের ভেতরের শান্ত আচরণ এবং বিনয়ী চরিত্র তাঁকে অনন্য করে তুলেছে। এত বছর ধরে বিশ্ব ফুটবল মাতালেও মাঠে তাঁকে কখনো কোনো উগ্রতা দেখাতে দেখা যায়নি এবং সতীর্থদের প্রতি তাঁর নেতৃত্বসুলভ মনোভাব অত্যন্ত শিক্ষণীয়। অতীতের ফুটবল সম্রাট পেলে কিংবা কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাโดনার সঙ্গে তাঁর তুলনা করতে গেলে যুগভেদে খেলার ধরন আলাদা থাকায় তিন প্রজন্মকে এক দাঁড়িপাল্লায় মাপা কঠিন। পেলে ফুটবলকে একটা শৈল্পিক রূপ দিয়েছিলেন এবং ম্যারাডোনা কম উচ্চতা নিয়েও গতি আর বল নিয়ন্ত্রণে নিজস্ব জাদুকরি শৈলীতে একা হাতে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। তবে বর্তমান অধিনায়ক হলেন ফুটবলের সবকিছুর একটা নিখুঁত এবং আধুনিক সমন্বয় যার কারণে এই বয়সেও তরুণ প্রতিপক্ষরা বল পায়ে তাঁর সঙ্গে পেরে উঠছে না।
বর্তমানে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে থাকা আর্জেন্টিনা দল গায়ের জোরে খেলার চেয়ে অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত এবং টেকনিক্যাল ফুটবল খেলে বড় জয় তুলে নিচ্ছে। দলের এই ইতিবাচক মানসিকতা এবং খেলার মান দুর্দান্ত হওয়ায় ইউরোপের পরাশক্তিদের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার এবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখছেন সমর্থকেরা। যা কম স্পষ্ট তা হলো ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দলটি কতদূর যেতে পারবে। যে দলে তাঁর মতো একজন প্রাণভোমরা আছেন তাঁর ওপর পুরো দল চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারে এবং সমর্থকেরাও গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিনন্দিত করছে। এই ফুটবল জাদুকর ফুটবলকে যা দিয়েছেন তার কোনো তুলনা হয় না এবং তিনি মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা নিয়ে বীরের মতো ক্যারিয়ার শেষ করবেন এটাই সবার প্রত্যাশা।
