মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন কিংবদন্তি নয়্যার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৩০, ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন কিংবদন্তি নয়্যার

জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো হতাশায়, আর সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও পর্দা নামল কিংবদন্তি গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার এর দীর্ঘ ও গৌরবময় ক্যারিয়ারের। জার্মানি বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়ার পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে চূড়ান্ত অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা লুকাতে পারেননি নয়্যার। বিদায়বেলায় আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন যে এভাবে শেষ হওয়াটা অত্যন্ত তিক্ত ও বেদনাদায়ক। জার্মানির বিশ্বকাপ স্বপ্নের সঙ্গে শেষ হয়ে গেল এমন এক ফুটবলারের আন্তর্জাতিক অধ্যায়, যিনি দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দলের শেষ ভরসা হয়ে ছিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে গোলপোস্টের নিচে তার উপস্থিতি ছিল দলের জন্য এক বিশাল স্বস্তির প্রতীক। রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই অবসরের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে উয়েফা ইউরো ২০২৪-এর কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে জার্মানির বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন নয়্যার। তবে বিশ্বকাপের আগে প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান-এর অনুরোধে অবসর ভেঙে আবার জাতীয় দলে ফিরেছিলেন তিনি। অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখেই তাকে বিশ্বকাপ দলে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের গল্পটি শেষ পর্যন্ত রূপকথা হয়ে ওঠেনি। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কোনো দল ব্যবধান গড়ে তুলতে না পারায় নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে। টাইব্রেকারে একটি গুরুত্বপূর্ণ শট ফিরিয়ে দিয়ে জার্মানিকে আশা জাগিয়েছিলেন নয়্যার। কিন্তু সতীর্থ জোনাথন তা পেনাল্টি মিস করলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয়সূচক শটটি নেন হোসে ক্যানালে। তাতেই শেষ হয়ে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযান।

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল জার্মানির জার্সিতে নয়্যারের ১২৮তম এবং শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এবারের বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ খেলেও একবারও ক্লিন শিট রাখতে পারেননি তিনি। পরিসংখ্যান আরও বলছে, ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ এর ফাইনালের পর বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচেই আর গোলপোস্ট অক্ষত রাখতে পারেননি এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। নয়্যারকে দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন নাগেলসম্যান। গত দুই বছর ধরে জার্মানির প্রথম পছন্দের গোলকিপার ছিলেন অলিভার বাউম্যান। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে আবারও নয়্যারের ওপর আস্থা রাখেন কোচ। পুরো টুর্নামেন্টেই বাউম্যানকে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে সাইডলাইনে। এমনকি ইকুয়েডরর বিপক্ষে ২-১ গোলের পরাজয়ের ম্যাচেও সুযোগ পাননি তিনি। ফলে দল নির্বাচনে নাগেলসম্যানের সিদ্ধান্ত নিয়ে জার্মান ফুটবল অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই পরাজয় এবং নয়্যারের আকস্মিক বিদায় জার্মানির ঘরোয়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে কতটা প্রভাবিত করবে। দলের তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের অনুপস্থিতি কেমন মানসিক প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। নাগেলসম্যানের কৌশলগত ভুল এবং বাউম্যানকে দলের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত আগামী দিনে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন যে সঠিক সময়ে নতুনদের সুযোগ না দেওয়ার কারণেই চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই চরম মূল্য দিতে হয়েছে। বিশেষ করে ইকুয়েডর ও প্যারাগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে রক্ষণভাগের দুর্বলতা প্রকটভাবে ফুটে উঠেছিল যা নয়্যার একাকী সামাল দিতে পারেননি।

২০০৯ সালে জার্মানির জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নয়্যারের। এরপর প্রায় ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে খেলেছেন ১২৮টি ম্যাচ। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির শিরোপা জয়ে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান কারিগর। সেই আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে জিতেছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা গোলকিপারের পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লাভস। ২০২৬ বিশ্বকাপই হয়ে থাকল তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম ও শেষ বিশ্বকাপ। বিদায়ের মুহূর্তে ট্রফি না থাকলেও আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলকিপার হিসেবে নয়্যারের নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই দীর্ঘ পথচলা শেষ হওয়ার পর এখন ফুটবল বিশ্ব তাকে ক্লাব ফুটবলের জার্সিতে কতদিন দেখতে পাবে তা-ই দেখার বিষয়।

banner
Link copied!